04/05/2012
আগামী বাজেটে ওয়ালটনকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে- এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ বলেছেন, উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে ওয়ালটন বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। আগামী
বাজেটে ওয়ালটনকে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করা হবে। সরকারি সহযোগিতা পেলে পণ্য রপ্তানী করে ওয়ালটন প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে।তিনি বলেন, বর্তমানে দেশেই উচ্চমানের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য তৈরি হচ্ছে। তাই
সরকারকে এধরণের পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি গত ৯ মার্চ ২০১২ গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা
পরিদর্শণকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।এসময় তিনি এফবিসিসিআই-এর একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ওয়ালটনের ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, এয়ারকন্ডিশনার তৈরির বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে এসব পণ্য তৈরিতে ব্যাবহৃত সর্বাধুনিক মেশিনারিজ ,সর্বশেষ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ কোয়ালিটি কন্ট্রোল সিস্টেম
উন্নয়ন ও গবেষণার কাজগুলো তারা সরেজমিনে নিবিঢ় পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সহ সভাপতি মোস্তফা
আজাদ চৌধুরী বাবু,এসেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ইলেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সানাউল্লাহ শহীদ, আর বি গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল
আলম, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল আলম, ব্র্যান্ড এম্ব্যাসেডর ইলিয়াস কাঞ্চন,এফবিসিসিআই উপ সচিব এস এম মিজানুর রহমান প্রমূখ।
এ কে আজাদ বলেন, এখানে এসে আমাদের ধারণা পালটে গেছে।ওয়ালটন কত এগিয়ে গেছে এখানে না আসলে তা বোঝা যাবে না।ওয়ালটন পণ্যের কোয়ালিটি আন্তর্যাতিক মানসম্পন্ন। ক্রমান্বয়ে এধরণের পণ্য আমদানি কমিয়ে আনার জন্য আমদানিকারকদের আহ্বান জানান তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, ওয়ালটন দেশের চাহিদা মিটিয়েও তাদের উৎপাদিত পণ্য আরো ব্যপকভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন আমদানি খরচ কম্বে,অন্যদিকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান,ওয়ালটনের নতুন একটি ফ্রিজ ফ্যাক্টরিতে শীঘ্রই উৎপাদন শুরু হবে। এছাড়া এলসিডি ও এলইডি টিভি, প্রতিদিন ৫০ হাজার মোবাইল সেট তৈরির ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হচ্ছে। এলসিএম ফ্যাক্তরি স্থাপনের পর বাংলাদেশ বিশ্বের সেনসেশন হয়ে উঠবে।এছাড়া আমাদের আরেকটি ড্রিম প্রজেক্ট হলো কার –যার ঘোষণা আসতে পারে এবছর-ই। ঘোষণার ২/৩ বছরের মধ্যেই তা গ্রাহকের হাতে পৌঁছবে।
প্রায় ৫ হাজার আউটলেটের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ১১ টি দেশে ফ্রিজ,এসি,মোটরসাইকেল, এলসিডি ও এলইডি টিভি, ডিভিডি প্লেয়ার ইত্যাদি বাজারজাত করছে। ওয়ালটন বছরে ১৪ লাখ ফ্রিজ,তিন লাখ করে মোটরসাইকেল ও এয়ারকন্ডিশনার এবং ১০ লাখ টিভি সেট তৈরি করছে।
২০০৮ সালে এই কারখানা উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে ওয়ালটন। গুনগত উচ্চমান এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে খুব দ্রুত দেশের বাজারে আধিপত্য স্থাপন করেছে ওয়ালটন।