14/09/2026
একটা কার্ড কি সত্যিই একজন মানুষকে মানবাধিকার কর্মী বানিয়ে দেয়? নাকি তার কর্ম, সততা আর মানুষের জন্য করা কাজই তার প্রকৃত পরিচয়?
আজ প্রশ্নটা শুধু একটি সংগঠনকে নিয়ে নয়—প্রশ্নটা মানবাধিকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রকৃত মানবাধিকার কর্মীদের সম্মান নিয়ে।
ইতিমধ্যে আমাদের কাছে অভিযোগ ও তথ্য এসেছে—কোথাও কোথাও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না করেই, টাকার বিনিময়ে মানুষকে বিভিন্ন পদ-পদবি ও পরিচয়পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একজন মানুষ কে?
তার পূর্বের কর্মকাণ্ড কী?
সে সমাজের জন্য কী করেছে?
তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না?
সে সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনেই যদি শুধু অর্থের বিনিময়ে একটি পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই কার্ডের অপব্যবহার করে কেউ অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে কলঙ্কটা শুধু তার গায়ে থাকে না—প্রশ্নবিদ্ধ হয় পুরো মানবাধিকার অঙ্গন।
আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান তারা, যারা বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নির্যাতিতের কথা শুনেছেন, অসহায়ের পাশে থেকেছেন এবং মানবাধিকারের জন্য কাজ করেছেন।
মানবাধিকার কোনো বিক্রির পণ্য নয়।
পদ-পদবি কোনো কেনাবেচার বিষয় নয়।
একটি কার্ড কোনো মানুষের চরিত্রের সার্টিফিকেট নয়।
আমাদের প্রয়োজন এমন মানবাধিকার কর্মী, যিনি পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্ষমতা দেখাবেন না; বরং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবেন এবং নিজের আচরণে মানবতার পরিচয় দেবেন।
তাই আমাদের দাবি খুবই পরিষ্কার—
কার্ড বাণিজ্য বন্ধ হোক।
যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক হোক।
প্রতিটি নতুন সদস্যের পরিচয়, বায়োডাটা ও পূর্বের কর্মকাণ্ড যাচাই করা হোক।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মতামত ও অনুমোদন ছাড়া কোনো পদ-পদবি বা পরিচয়পত্র দেওয়া না হোক।
এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে—ব্যক্তি যে পর্যায়েরই হোক, প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কারণ আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই।
আমরা অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
আমরা কার্ড বাণিজ্যের বিরুদ্ধে।
আমরা মানবাধিকারের নামে পরিচয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
❤️ প্রকৃত মানবাধিকার কর্মীদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
আপনিও যদি মনে করেন মানবাধিকার কর্মী হওয়ার আগে একজন মানুষের পরিচয়, চরিত্র, কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি, তাহলে কমেন্টে লিখুন—
“হ্যাঁ, আমি একমত।”
আপনাদের মতামতই পরবর্তী সময়ে সদর দপ্তরের কাছে আমাদের লিখিত দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মনে রাখবেন—
“কার্ড পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য করা কর্মই প্রমাণ করে—কে প্রকৃত মানবাধিকার কর্মী।”
— হায়দার রিয়াজ খান
সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা সেন্ট্রাল রিজিয়নাল ব্রাঞ্চ
ও সদর দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি
#মানবাধিকার #প্রকৃতমানবাধিকারকর্মী #কার্ডবাণিজ্যবন্ধহোক #সচেতনহোন #মানবতারজন্য #ন্যায়ওসততা #সচেতনতা