11/03/2026
পবিত্র কুরআনে রাষ্ট্র, সমাজ এবং জাতি পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, আমানতদারি এবং পারস্পরিক পরামর্শ। নিচে এর প্রধান স্তম্ভগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা (Justice): কুরআন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শর্ত হিসেবে ন্যায়বিচারকে গণ্য করে। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
২. পরামর্শ ভিত্তিক শাসন (Shura): একনায়কতন্ত্রের বদলে কুরআন পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে। ইরশাদ হয়েছে, "এবং তাদের (মুমিনদের) কাজ সম্পন্ন হয় নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে।" (সূরা আশ-শুরা: ৩৮)
৩. যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান (Meritocracy): রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক দায়িত্ব আমানত হিসেবে গণ্য। এটি এমন ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত যে ওই কাজের যোগ্য এবং বিশ্বস্ত। (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
৪. শাসকের আনুগত্য ও আইন মান্য করা: বিশৃঙ্খলা রোধে কুরআন বিধিবদ্ধ আইন ও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকার নির্দেশ দেয়, যতক্ষণ না তা আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী হয়। "হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদের।" (সূরা আন-নিসা: ৫৯)
৫. অর্থনৈতিক সাম্য (Social Equity): সম্পদ যেন কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না থাকে, কুরআন সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলে। এজন্য যাকাত ও সদকার বিধান দেওয়া হয়েছে যাতে দরিদ্রদের অধিকার সংরক্ষিত থাকে। (সূরা আল-হাশর: ৭)
৬. মানবাধিকার ও সাম্য: কোনো জাতি বা গোত্রের ওপর অন্য কোনো গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তার তাকওয়া বা খোদাভীতি। (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)
৭. অমুসলিমদের অধিকার: কুরআন অমুসলিম ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সাথে অঙ্গীকার রক্ষা এবং তাদের প্রতি সদয় ও ইনসাফপূর্ণ আচরণের নির্দেশ দেয়। (সূরা আল-মুমতাহিনা: ৮)
সারসংক্ষেপে, কুরআন এমন একটি সমাজ ব্যবস্থার কথা বলে যেখানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে জনকল্যাণ ও ইনসাফ কায়েম করা হয়।