25/11/2018
হাইব্রিড গাড়ি আসলে কি ?
হাইব্রিড প্রযুক্তি মানেই হলো, একাধিক বিকল্প পদ্ধতির সুসমন্বয়৷ হাইব্রিড গাড়িতে বিকল্প একাধিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় জ্বালানি ব্যবহারের কাজে৷ এ ধরনের গাড়ি একাধিক জ্বালানিতে চালানো যায়৷ হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিন তো থাকেই, সঙ্গে আরো থাকে এক বা একাধিক ইলেকট্রিক মোটর এবং ব্যাটারির সংযোগ৷ জ্বালানি দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করলে আপনাআপনি ব্যাটারি চার্জ হয়৷ উচ্চ টর্ক সম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনে গাড়ি চলতে থাকে৷ সুবাদে জ্বালানির সাশ্রয় হয়, জ্বালানি শেষ হলে গাড়ি ব্যাটারিতেই চলতে পারে৷ হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকে একটি ইলেকট্রিক মোটর৷ উচ্চ টর্কের জন্য এ ধরনের মোটরের সুখ্যাতি রয়েছে৷ দ্রুত গতিতে চালাতে চাইলে গাড়িতে এই মোটর থাকা ভালো৷ হাইব্রিড গাড়িকে এই জন্য পরিবেশ বান্ধব গাড়িও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও এখন এসে গেছে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি৷ হন্ডা কোম্পানির তৈরি করা এই হাইব্রিড গাড়ির বাংলাদেশে পরিবেশক ডিএইচএস মোটরস৷ তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা হন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িতে রয়েছে ১.৩ লিটারের ৩ স্তরের আই-ভিটিইসি ইঞ্জিন৷ ইঞ্জিনটি ইন্টিগ্রেটেড মোটর অ্যাসিস্ট (আইএমএ) সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি বলে চালু হবার সময় এটি পেট্রোল ইঞ্জিনেই চলবে৷ গাড়ি থামালে বা ব্রেক কষলে পেট্রোল ইঞ্জিন বন্ধ হবে৷ ফলে তেল খরচ কমবে৷ প্রতি একশ’ কিলোমিটারে খরচ হবে মাত্র ৪.৬ লিটার তেল৷ হন্ডা সিভিকের হাইব্রিডে রয়েছে একটি ডুয়াল স্ক্রল হাইব্রিড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, যা শক্তি সরবরাহের পাশাপাশি দু’টি এয়ার কন্ডিশনিং কমপ্রেসারও পরিচালনা করে৷ এর ফলে পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে৷ স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত কমপ্রেসারটি শীততাপ নিয়ন্ত্রকের কাজ করে৷ হোন্ডা সিভিকের এই হাইব্রিড গাড়ি এক লিটার জ্বালানিতে ২১.৭৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে৷ সারা বিশ্বে হন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িই সবচেয়ে কম গ্যাস নিঃসরণ করে৷ আমাদের ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ গাড়ির কালো ধোঁয়া৷ যানবাহনের এই কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করতে সবার আগে দরকার এই পরিবেশবান্ধব গাড়ি৷