13/03/2022
ইঞ্জিন অয়েল কমে যাওয়ার কারণ :
বিশ্বের অনেক দেশেই অর্থাৎ উন্নত দেশগুলোতে ড্রেইন ইন্টারভাল অনেক বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া তারা নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল টপ আপ করতে পারে। আমাদের দেশে এই সার্ভিস একেবারে নেই বললেই চলে। মোটর সাইকেল অনেক বেশি সময় ধরে চলতে চলতে ইঞ্জিন অয়েল কমে যাওয়াটা একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। এর প্রধান কারণ হলো পিস্টন রিং এর পাশ দিয়ে সামান্য অয়েলে ইঞ্জিনের ভেতর বার্ন হয়ে থাকে। আবার ইঞ্জিন অয়েল কমে গেলে মোটর বাইকের সাউন্ডে তার প্রভাব পড়ে। আমাদের দেশের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীরা মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন। এছাড়া অনেকেই সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মিনারেল থেকে উদ্ভূত গ্রুপ – ৩ বেজ অয়েল বা গ্রুপ – ৩ মিক্স করা মিনারেল অয়েল। মিনারেল অয়েলের একটি নেগেটিভ সাইড রয়েছে। আর তা হলো ইঞ্জিন চলার সময় এই হাই টেম্পারেচারে যখন মিনারেল অয়েল অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে তখন অক্সিজেনের সাথে খুব ধীর প্রসেসে রিয়েক্ট করে একটি নতুন অণু তৈরি করে। মূলত এ জন্যই ইঞ্জিন অয়েল কমে যাবার প্রবণতাটা বেশি। এবার প্রশ্ন আসতে পারে বাকি দুই ইঞ্জিন অয়েল অর্থাৎ সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল আর সেমি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিন অয়েল কমে যাবে কি না। হ্যাঁ, যাবে। তবে এর পরিমাণ অনেকটাই কম। অর্থাৎ মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে যতটুকু কমে যাওয়ার কথা এর থেকে কম অংশ কমবে অন্য দুটি ইঞ্জিন অয়েলে।
***এখন আসি ইঞ্জিন হিট হওয়া থেকে কিভাবে পরিত্রান পেতে পারি সে বিষয় নিয়ে ....
1. যদি এটি একটি এয়ার কুলিং ইঞ্জিন হয় তবে এয়ার ঠিকমতো প্রবাহিত হচ্ছে কিনা সেটা দেখতে হবে I যদি এটি একটি লিকুইড কুলিং ইঞ্জিন হয় তবে আপনাকে ভাল মানের লিকুইড ব্যবহার করতে হবে। যেমন রেপ্সল ,ক্যাস্ট্রল রেডিকুল, মটুল ইনুজেল ইত্যাদি I
2. আপনি যদি মিনারেল অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে ৮০০-১০০০, সেমি-সিন্থেটিক ১২০০-১৫০০ এবং সিন্থেটিক ইঞ্জিন অয়েল ২০০০-২৫০০ কিমি এর মধ্যে পরিবর্তন করা ভাল।
3. ক্লাচ লিভার টেনসান সঠিক রাখবেন। অতিরিক্ত টাইট ক্লাচ লিভার ইঞ্জিন বেশি হিট করবে। আবার বেশি লুজ ক্লাচ লিভারও হিট করে ইঞ্জিন।।
4. চাকার টায়ার প্রেসার সঠিক রাখবেন
5. সকল প্রকার এক্সট্রা ইঞ্জিন মাড গার্ড খুলে রাখবেন!! কখনো লাগাবেন নাহ এইসব!! এইগুলা ইঞ্জিনে বাতাস ফ্লো বাধা দেয়, ইঞ্জিন হিট করে।
6. আইডল আরপিএম এক্সাক্টলি ম্যানুয়ালে যা বলা আছে তাই রাখতে হবে। কমও রাখা যাবে নাহ,বেশিও নাহ। (এফ আই বাইকের জন্য এইটা গুরুত্তপূর্ন)
7. এফ আই বাইকে ইঞ্জেক্টর ক্লিন করবেন।
8. ইঞ্জিনে বেশি ঝের ঝের সাউন্ড হলে সঠিক গ্যাপ রেখে ফিলার গজ দিয়ে ট্যাপেট এডজাস্ট করবেন। এই গরমে সামান্য ট্যাপেট লুজ থাকলেও বিকট চের চের সাউন্ড হবে,যেটা অন্য সময় হবে নাহ!।
8. ইঞ্জিনে কাদা থাকলে ক্লিন করুন। অতিরিক্ত ধুলা বালি বা কাদাযুক্ত ইঞ্জিন প্রপারলি কুল হতে পারে না। তাই হিট করে ইঞ্জিন।