02/09/2021
ব্রেক ইন পিরিয়ড কি?
এই বিষয় বিশেষ করে নতুন বাইকারদের একেবারেই ধারণা নেই বা কম ধারণা আছে।
আপনি এবং আপনার ভাই বা বন্ধু একই সাথে ২টি বাইক ক্রয় করলেন,কিছুদিন পরে দেখা যাচ্ছে আপনার বন্ধুর বাইক ঠিক থাকলেও আপনার বাইকে অনেক সমস্যা।মাইলেজ ভালো পাচ্ছেন না,ইঞ্জিনের সাউন্ড নষ্ট,আরও অনেক ইত্যাদি,ইত্যাদি।তাই ব্রেক ইন পিরিয়ড মেনটেইন করা আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
চলুন আমরা জেনে নেই কিভাবে ব্রেকিং পিরিয়ড মেইনটেন করা উচিৎ।
১🔺ব্রেক ইন পিরিয়ড অর্থাৎ নতুন বাইক কেনার পরে বাইক ২০ এর নিচের গতিতে চালাবেন না,আবার ৪৫-৫৫ এর উপরে চালাবেন না।আবার পরবর্তীতে ৫০০কিমি ৪০-৫০/আবার ৫০০ কিমি ৪৫-৫৫/৬০/৭০/৮০।কিন্ত মনে রাখবেন ব্রেক ইন পিরিয়ড চলছে।
২🔺গাড়ি ৩-৪গিয়ারে চালানোর চেষ্টা করুন,নতুন গাড়ি সবকিছু খসখসা তাই রানিং করুন ধিরে ধিরে।সকালে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ২-৩মিনিট চালু রাখুন,এতে ইঞ্জিন অয়েল পুরা গাড়িতে সঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
৩🔺ব্রেক ইন পিরিয়ড এ গাড়ি ২-৩হাজার কিমি খুব যত্নের সাথে চালানোর চেষ্টা করুন।
৪🔺ব্রেক ইন পিরিয়ড এ প্রথম ২০০কিমিতে ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ,এরপরে ৬০০,পরবর্তী ১০০০ করে।
১ম অয়েল চেঞ্জ -২০০ কিলোমিটারে
২য় অয়েল চেঞ্জ -৬০০ কিলোমিটারে
৩য় অয়েল চেঞ্জ -১২০০ কিলোমিটারে
এখন আপনি যে ইঞ্জিন অয়েল ইউজ করবেন পরামর্শ নিয়ে চেঞ্জ করবেন।কারণ ইঞ্জিন অয়েল সিন্থেটিক,সেমি সিন্থেটিক আর মিনারেল এই তিন ধরনের হয়ে থাকে।
৫🔺অয়েল ফিল্টার প্রতিবার ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করার পরেই পরিবর্তন করবেন।এতে ফুয়েল+ইঞ্জিন অয়েল সঠিকভাবে ইঞ্জিন এ যাবে।
৬🔺। আমদের কাছে যে প্রশ্নটা সব চেয়ে বেশী এসে টা হচ্ছে "ভাই আমার মোটরসাইকেলটি ৪০০/৮০০/১৫০০/২৫০০ কিলোমিটার রানিং , ইঞ্জিন খুব হিট হচ্ছে"।গাড়ি নতুন তাই ইঞ্জিন হিট হবেই। এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। গাড়ি শহরে চালাইলে রেস্ট দিয়ে দিয়ে চালাবেন,৩০-৪০মিনিট চললে ১০মিনিট রেস্ট।
৭🔺 নতুন বাইক নিয়ে লং ট্যুর এ না যাওয়াই ভালো,গেলে ১৫০০+ কিমি হলে+বাইকের কন্ডিশন বুঝে এরপরে যাবেন।গাড়িতে রেস্ট দিবেন।
৮🔺সঠিক গ্রেড এর ইঞ্জিন ওয়েল ব্যাবহার করা বাধ্যামূলক।
সময়মতো গাড়ি সার্ভিসিং করুণ ,অন্ত্যত ১২-১৫হাজার কিমি চলার পরে/৩০০০ কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন,
করুণ।
৯🔺ব্রেক প্যাড,চেইন,চেইন spokets চেকআপ এ রাখবেন প্রতি ৭০০-১৫০০কিমি। অবশ্য এটা সম্পূর্ণ আপনার চালানোর ধরনের উপর সব নির্ভর করবে।
ব্রেক ইন পিরিয়ড কম্পলিট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফল স্বরূপ আপনি আপনার মোটরসাইকেল থেকে সঠিক ফিড ব্যাক ও মাইলেজ পাবেন।
নতুন মোটরসাইকেল শোরুম recommended service point থেকে সার্ভিসিং করানো উত্তম, যদি বাইকটি গ্রে মার্কেট থেকে নিয়ে থাকেন তবে আমদের জিজ্ঞেস করতে পারেন কোন সার্ভিসসেন্টার থেকে সার্ভিসকরালে আপনি ভালো ফলাফল পেতে পারেন। গ্রে মার্কেট এর রেকমেন্ডেশন না ফলো করাই ভালো।
বোনাস টিপ🔺 অনেক সময় হয়তো দেখা যাচ্ছে ২০০টাকার একটি পার্টস পরিবর্তন না করার কারণে ২০০০ টাকার কাজ লেগে যেতে পারে।
টাইম টু টাইম পার্টস চেঞ্জ করা একটা wiser idea।