হেদায়েতের কালাম

হেদায়েতের কালাম সুবহানাল্লাহি; আলহামদুলিল্লাহি; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু; আল্লাহু আকবার।

18/06/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
নিশ্চয়ই ইসলামের বিধান পালনকারী (মুসলিম) পুরুষ ও ইসলামের বিধান পালনকারিনী (মুসলিম) নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী (ধৈর্যের সাথে এবাদত করা, ধৈর্যের সহিত পাপ কার্য থেকে বিরত থাকা, এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করা সবই ইহার অন্তর্ভুক্ত), বিনয়ী পুরুষ ও বিনীতা নারী( অহংকার এর বিপরীততে নম্রতা, এবাদতে সন্নিবেশ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি দ্বারা বিনয় প্রকাশ ইহার অন্তর্ভুক্ত), দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী (যাকাত ও নফল দান), রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী(ফরজ ও নফল রোযা), স্বীয় লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী (সংযমী) নর ও স্বীয় লজ্জাস্থানের হেফাজতকারীনি (সংযমী) নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী(প্রকাশ্যে এবং অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ করা) -এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।
(সূরা-আল:আহযাব; আয়াত: ৩৫)

11/05/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
তারা (মুমিন বান্দা )খাদ্যের প্রতি আসক্তি ও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও[১] অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে অন্নদান করে।
এবং বলে, ‘শুধু আল্লাহর সস্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাবার দান করি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয় [২] (সূরা: আল-ইনসান;আয়াত:৮-৯)

তাফসীর:[১] অথবা সে আল্লাহর মহব্বতে অভাবীদেরকে খাদ্য দান করে। বন্দী অমুসলিম হলেও তার সাথে উত্তম ব্যবহার করার তাকীদ করা হয়েছে। যেমন বদর যুদ্ধের কাফের বন্দীদের ব্যাপারে নবী (সাঃ) সাহাবাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তাদের সম্মান কর। তাই সাহাবায়ে কেরাম প্রথমে তাদেরকে খাবার খাওয়াতেন এবং তাঁরা নিজেরা পরে খেতেন। (ইবনে কাসীর) অনুরূপ ক্রীতদাস এবং চাকর-ভৃত্যরাও এরই অন্তর্ভুক্ত। তাদের সাথেও উত্তম ব্যবহার করার তাকীদ করা হয়েছে। নবী (সাঃ)-এর শেষ অসিয়ত এটাই ছিল যে, "তোমরা নামায এবং নিজেদের ক্রীতদাস-দাসীদের প্রতি খেয়াল রাখবে।" (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, অসীয়ত অধ্যায়)
[২] গরীবদের খাবার দেয়ার সময় মুখে একথা বলতে হবে এমনটা জরুরী নয়। মনে মনেও একথা বলা যেতে পারে। আল্লাহর কাছে মুখে বলার যে মর্যাদা অন্তরে বলারও সে একই মর্যাদা। তবে একথা মুখে বলার উল্লেখ করা হয়েছে এ জন্য যে, যাকে সাহায্য করা হবে তাকে যেন নিশ্চিত করা যায় যে, আমরা তার কাছে কোনো প্রকার কৃতজ্ঞতা অথবা বিনিময় চাই না, যাতে সে চিন্তামুক্ত হয়ে খাবার গ্রহণ করতে পারে। [ইবন কাসীর]

09/05/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে,[১] যাতে আমি তাকে পরীক্ষা করি, এই জন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। [২]
নিশ্চয় আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি; হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে। [৩]
(সূরা: আল-ইনসান; আয়াত:২-৩)

তাফসীর:[১] মিলিত শুক্র বা বীর্যবিন্দু বলতে নর-নারী উভয়ের মিশ্রিত বীর্য এবং তার বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থা। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হল, তাকে পরীক্ষা করা। যেমন তিনি বলেছেন, "যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্য; কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম?" (সূরা মুলক ৬৭:২ আয়াত)
[২] অর্থাৎ, তাকে শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি দান করেছি। যাতে সে সব কিছু দেখতে ও শুনতে পারে এবং তারপর আনুগত্যের অথবা অবাধ্যতার উভয় রাস্তার মধ্যে কোন এক রাস্তা অবলম্বন করতে পারে।
[৩] অর্থাৎ, উল্লিখিত শক্তি ও যোগ্যতাদি দেওয়ার সাথে সাথে আমি নিজেও আসমানী কিতাব, আম্বিয়া এবং হকপন্থী আহবানকারীদের মাধ্যমে সঠিক পথকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছি। এখন তার ইচ্ছা আল্লাহর আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা গণ্য হোক অথবা তাঁর অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করে অকৃতজ্ঞ বান্দা হোক। যেমন, এক হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, "প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আত্মার বেচা-কেনা করে। সুতরাং হয় সে তাকে ধ্বংস করে দেয় অথবা তাকে মুক্ত করে নেয়।" (মুসলিমঃ পবিত্রতা অধ্যায়, ওযু পরিচ্ছেদ) অর্থাৎ, নিজের আমল ও কর্মাকর্ম দ্বারা হয় তাকে ধ্বংস করে অথবা মুক্ত করে নেয়। যদি সে পাপকাজ করে, তাহলে ধ্বংস করে। আর যদি পুণ্যকাজ করে, তাহলে সে আত্মাকে মুক্ত করে নেয়।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সুরা আল- ইম...
20/03/2025

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সুরা আল- ইমরান, আয়াত: ১০৩)
আল্লাহ্ বলেন, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১০)
আল্লাহ্ আরো বলেন, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচররা অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল।(সুরা ফাতাহ, আয়াত : ২৯)
আল্লাহর বিধানকে আকড়ে ধরতে পারি নাই, বিধায় আজ আমরা বিচ্ছিন্ন, আমরা মোনাফেক, আমরা অবিশ্বাসী কাফের ও মোনাফেকদের প্রতি উদার ও নমনীয় এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি উদাসীন ও নির্মম।

আজ আমরা সম্পদ, ক্ষমতা হাসিল ও দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত! হরেক রকমের আইটেম দিয়ে ইফতার ও সাহরি করায় ব্যস্ত, অন্যদিকে ইফতার ও সাহরির জন্য খাবার পানি না পাওয়ার আহাজারি ও সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত, একদিকে ঈদের কেনাকাটায় মধ্যরাত অবধি ব্যস্ত, অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে ছেঁড়া পোশাকে জীবন যাপন নিয়ে ব্যস্ত!!!
মুসলিম উম্মাহ এক দেহের ন্যয়, অথচ আজ দেহের এক হাত সজ্জিত ও উদরপূর্তিতে ব্যস্ত আর অন্য হাত রক্তাক্ত!!

ইয়া আল্লাহ, আপনি এই ইয়াহুদি, কাফের ও মোনাফেকদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথকে সুদৃঢ় করুন।
ইয়া গফুরু, আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আপনার বিধান ও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন ও আদর্শকে আঁকড়ে ধরে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। গোটা জীবনের জন্য রিযিক্ বানাইয়া দেন ইহার তিলাওয়াতকে যাহা একমাত্র আমাদের হেদায়েতের উদ্দেশ্যে নাজিল করেছেন।

04/03/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,

আমি অবশ্যই মানুষের জন্য এই কুরআনে সর্বপ্রকার উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু মানুষ সর্বাধিক বিতর্ক-প্রিয়। (সূরা:আল-কাহ্ফ;আয়াত:৫৪)

তাফসীর: অর্থাৎ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন, মানুষদেরকে সত্য পথ বুঝানোর জন্য কুরআনে আমি সব রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। ওয়ায-নসীহত করেছি। দৃষ্টান্ত, ঘটনাবলী এবং দলীলাদি পেশ করেছি। আর এগুলো বারংবার বিভিন্ন আকারে বর্ণনা করেছি। কিন্তু যেহেতু মানুষ কঠিন বিতর্ক-প্রিয়, তাই না ওয়ায-নসীহতের তার উপর কোন প্রভাব পড়ে, আর না দলীল-প্রমাণ তার জন্য ফলপ্রসূ হয়।

02/03/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
রসূল বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।
(সূরা- আল-ফুরকান;আয়াত:৩০)

তাফসীর: কুরআনকে যেভাবে উম্মাতের চর্চা করা, মেনে চলা ও মর্যাদা দেয়া এবং বিশ্বাস করা উচিত, যারা তা করে না তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার কাছে বলবেন: হে আল্লাহ তা‘আলা! আমার এ জাতি কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে। তারা কুরআনকে বর্জন করেছে, কুরআনকে মেনে নেয়নি এবং তার যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। কুরআনের প্রতি ঈমান না আনা এবং সেই মত আমল না করাও কুরআন বর্জন করার নামান্তর। কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা না করা, তার আদেশাবলী পালন না করা ও তাঁর নিষেধাজ্ঞাবলী হতে বিরত না থাকাও এক প্রকার কুরআন ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। অনুরূপ তার উপর অন্য কোন কিতাবকে অগ্রাধিকার দেওয়াও তা পরিত্যাজ্য মনে করার মধ্যে গণ্য। মুশরিকরা কুরআন পাঠের সময় খুব হৈ-হল্লা করত, যাতে কুরআন না শোনা যায়। এটাও এক ধরনের কুরআন পরিত্যাগ করার নামান্তর। উক্ত সকল লোকদের বিরুদ্ধে কিয়ামত দিবসে রসূল (সাঃ) বিচার প্রার্থনা করবেন।
**পবিত্র মাহে রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। তাই আমাদের প্রতেকের কুরআনের হক্ব আদায় করা উচিৎ।

01/03/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,

কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী?
এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।[১]
চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে।
তার উপর রয়েছে ঊনিশজন (প্রহরী)।[২]
(সূরা-আল-মুদ্দাছছির;আয়াত:২৭-৩০)

তাফসীর:[১] তাদের শরীরে না গোশত বাকী রাখবে, আর না হাড়। অথবা এর অর্থ হল, জাহান্নামীদেরকে না জীবন্ত ছাড়বে, আর না মৃত।
[২] অর্থাৎ, জাহান্নামে প্রহরী স্বরূপ ১৯ জন ফিরিশতা নিযুক্ত থাকবেন।

28/02/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
আর বেশী পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করো না।
(সূরা:আল-মুদ্দাছ্ছির;আয়াত:৬)

তাফসীর:অর্থাৎ, অপরের প্রতি অনুগ্রহ করে এই আশা করো না যে, বিনিময়ে তার থেকে অধিক পাওয়া যায়। আপনি যার প্রতিই ইহ্সান বা অনুগ্রহ করবেন, নিঃস্বাৰ্থভাবে করবেন। আপনার অনুগ্রহ ও বদান্যতা এবং দানশীলতা ও উত্তম আচরণ হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। ইহ্সান বা মহানুভবতার বিনিময়ে কোনো প্রকার পার্থিব স্বাৰ্থ লাভের বিন্দুমাত্ৰ আকাঙ্খাও করবেন না; বেশি পাওয়ার আশায়ও ইহ্সান করবেন না।

26/02/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,

তোমার প্রতিপালক তো জানেন যে, তুমি জাগরণ কর কখনো রাত্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, কখনো অর্ধাংশ এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ এবং জাগে তোমার সাথে যারা আছে তাদের একটি দলও।[১] আর আল্লাহই নির্ধারিত করেন দিবস ও রাত্রির পরিমাণ।[২] তিনি জানেন যে, তোমরা এর সঠিক হিসাব কখনও রাখতে পারবে না,[৩] তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন।[৪] কাজেই কুরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের জন্য সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর।[৫] আল্লাহ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ-সন্ধানে দেশ ভ্রমণ করবে[৬] এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে সংগ্রামে লিপ্ত হবে।[৭] কাজেই কুরআন হতে যতটুকু সহজসাধ্য আবৃত্তি কর,[৮] নামায প্রতিষ্ঠিত কর,[৯] যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহকে দাও উত্তম ঋণ।[১০] তোমরা তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে, তোমরা তা আল্লাহর নিকট উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর পাবে।[১১] আর তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা:আল-মুযযামমিল;আয়াত:২০)

তাফসীর:[১] যখন সূরার শুরুতে অর্ধরাত অথবা তার কিছু কম-বেশী কিয়াম করার (তাহাজ্জুদ নামায পড়ার) আদেশ দেওয়া হল, তখন নবী (সাঃ) এবং তাঁর সাথে সাহাবা (রাঃ)-দের একটি দল রাতে কিয়াম করতে লাগলেন। কখনো দুই-তৃতীয়াংশের কম, কখনো অর্ধরাত পর্যন্ত, আবার কখনো রাতের এক-তৃতীয়াংশ, যা এখানে উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু প্রথমতঃ রাতে ধারাবাহিকতার সাথে এই কিয়াম করা বড়ই কঠিন ছিল। দ্বিতীয়তঃ অর্ধ রাতের অথবা এক-তৃতীয়াংশের বা দুই-তৃতীয়াংশের অনুমান করে কিয়াম করা আরো কঠিন ছিল। তাই মহান আল্লাহ এই আয়াতে লঘুকরণের নির্দেশ অবতীর্ণ করলেন। যার অর্থ কারো কারো নিকট, কিয়াম ত্যাগ করার অনুমতি। আর কারো নিকট এর অর্থ হল, তাঁর (কিয়ামের) ফরযকে মুস্তাহাবে পরিবর্তন করণ। এখন এটা না উম্মতের উপর ফরয, আর না নবী (সাঃ)-এর উপর ফরয। কেউ কেউ বলেছেন, এটা কেবল উম্মতের জন্য হাল্কা করা হয়েছে। নবী (সাঃ)-এর জন্য তা পড়া জরুরী ছিল।

[২] অর্থাৎ, মহান আল্লাহই মুহূর্তগুলো গণনা করতে পারেন যে, তা কতটা অতিবাহিত হয়েছে এবং কতটা অবশিষ্ট আছে। তোমাদের জন্য এর অনুমান করা অসম্ভব ব্যাপার।

[৩] রাত কতটা অতিবাহিত হয় --তা জানা যখন তোমাদের পক্ষে সম্ভবই নয়, তখন তোমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামাযে কিভাবে মগ্ন থাকতে পার?

[৪] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা রাতের কিয়ামের অপরিহার্যতা রহিত করে দিয়েছেন। এখন কেবল তার ইস্তিহবাব (পড়লে ভাল --এই মান) অবশিষ্ট রয়েছে। আর তাও নির্দিষ্ট ওয়াক্তের ধরাবাঁধা কোন নিয়ম ছাড়াই পড়া যায়। অর্ধরাতের, রাতের এক তৃতীয়াংশের অথবা দুই তৃতীয়াংশের নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখাও জরুরী নয়। যদি কেউ সামান্য সময় ব্যয় করে দু' রাকআতই পড়ে নেয়, তবুও সে আল্লাহর নিকট রাতে কিয়াম করার নেকী পাওয়ার অধিকারী হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি রসূল (সাঃ)-এর অভ্যাস অনুসারে ৮ (এবং বিত্র সহ ১১) রাকআত তাহাজ্জুদ নামায পড়তে যত্নবান হয়, তাহলে তা হবে সর্বাধিক উত্তম এবং সে নবী (সাঃ)-এর ভক্ত অনুসারী গণ্য হবে।

[৫] فَاقْرَأُوْا (কুরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের জন্য সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর) এর অর্থ হল, فَصَلُّوْا (তোমরা নামায পড়)। আর 'কুরআন' বলতে এখানে الصَّلاَةَ (নামায) বুঝানো হয়েছে। যেহেতু তাহাজ্জুদের নামাযে কিয়াম (দাঁড়ানো) অনেক লম্বা হয় এবং কুরআন খুব বেশী পড়া, তাই তাহাজ্জুদের নামাযকেই কুরআন বলে আখ্যায়িত করা হয়। যেমন, নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া একান্ত জরুরী হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ হাদীসে ক্বুদসীতে এটা (সূরা ফাতিহা)-কে 'নামায' বলে আখ্যায়িত করেছেন, قَسَّمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي । কাজেই 'যতটুকু কুরআন পড়া সহজ হয়, ততটুকু পড়'এর অর্থ হল, রাতে যত রাকআত নামায পড়া সহজসাধ্য হয়, তত রাকআত পড়ে নাও। এর জন্য না সময় নির্ধারণের প্রয়োজন আছে, আর না রাকআতের ব্যাপারে কোন ধরাবাঁধা সংখ্যা আছে। এই আয়াতের ভিত্তিতে কেউ কেউ বলেছেন যে, নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া জরুরী নয়। যার জন্য কুরআনের যে অংশ পড়া সহজ, সে তা পড়ে নেবে। কেউ যদি কুরআনের যে কোন স্থান থেকে একটি আয়াতও পড়ে নেয়, তারও নামায হয়ে যাবে। কিন্তু প্রথমতঃ এখানে কুরআন বা 'ক্বিরাআত' অর্থ নামায যা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি। অতএব আয়াতের সম্পর্ক এর সাথে নেই যে, নামাযে কতটা ক্বিরাআত পড়া জরুরী? দ্বিতীয়তঃ যদি মেনেও নেওয়া যায় যে, এর সম্পর্ক ক্বিরাআতের সাথে, তবুও এ দলীলের মধ্যে কোন শক্তি নেই। কেননা, مَا تَيَسَّرَ তফসীর স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, কমসে-কম যে ক্বিরাআত ব্যতীত নামায হয় না তা হল, সূরা ফাতিহা। এই জন্যই তিনি বলেছেন, এটা (সূরা ফাতিহা) অবশ্যই পড়। যেমন সহীহ এবং অত্যধিক শক্তিশালী ও স্পষ্ট হাদীসমূহে এ নির্দেশ রয়েছে। নবী করীম (সাঃ) এর ব্যাখ্যার বিপরীত এই বলা যে, 'নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া জরুরী নয়, বরং যে কোন একটি আয়াত পড়লেই নামায হয়ে যাবে' বড়ই দুঃসাহসিকতা এবং নবী (সাঃ)-এর হাদীসকে কোন গুরুত্ব না দেওয়ারই নামান্তর। অনুরূপ এটা ইমামদের উক্তিরও বিপরীত। তাঁরা উসূলের কিতাবগুলোতে লিখেছেন যে, এই আয়াতকে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়ার দলীল হিসাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ, দু'টি আয়াত পরস্পর বিপরীতমুখী। তবে কেউ যদি জেহরী (মাগরেব, এশা, ফজর, জুমআহ, তারাবীহ, ঈদ প্রভৃতি) নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়ে, তাহলে ইমামদের কেউ কেউ কোন কোন হাদীসের ভিত্তিতে তা জায়েয বলেছেন। আবার কেউ তো না পড়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। (বিস্তারিত জানার জন্য 'ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া জরুরী' এ বিষয়ে লিখিত কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্যঃ)

[৬] অর্থাৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কাজ-কর্মের জন্য সফর করবে। এক শহর থেকে অন্য শহরে অথবা এক দেশ থেকে অন্য এক দেশে যাতায়াত করবে।

[৭] অনুরূপ জিহাদেও সফরের কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আর এই তিনটি জিনিসেরই --অসুস্থতা, সফর এবং জিহাদ-- পালাক্রমে সকলেই শিকার হয়ে থাকে। এই জন্য আল্লাহ তাআলা রাতে কিয়াম করার জরুরী নির্দেশকে শিথিল করে দেন। কেননা, এই তিনটি অবস্থাতে এ কাজ অতি কঠিন এবং বড়ই ধৈর্যসাপেক্ষ কাজ।

[৮] শিথিল ও হাল্কা করার কারণসমূহ বর্ণনার সাথে এখানে পুনরায় উক্ত নির্দেশ হাল্কা করার কথাকে তাকীদ স্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে।

[৯] অর্থাৎ, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায।

[১০] অর্থাৎ, আল্লাহর রাস্তায় প্রয়োজন ও সাধ্যমত ব্যয় কর। এটাকে 'ক্বারযে হাসানা' (উত্তম ঋণ) নামে এই জন্য আখ্যায়িত করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ এর পরিবর্তে সাতশ' গুণ বরং তার থেকেও বেশী সওয়াব দান করবেন।

[১১] অর্থাৎ, নফল নামাযসমূহ, সাদাকা-খয়রাত এবং অন্যান্য যে সব সৎকর্মই করবে, আল্লাহর কাছে তার উত্তম প্রতিদান পাবে। অধিকাংশ মুফাসসিরের নিকট ২০ নং এই আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই জন্য তাঁরা বলেন যে, এর অর্ধেক অংশ মক্কায় এবং অর্ধেক অংশ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। (আইসারুত্ তাফাসীর)

23/02/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,

নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে।
যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত।
আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিশয় কৃপণ।
সালাত আদায়কারীগণ ছাড়া,
যারা তাদের সালাতের ক্ষেত্রে নিয়মিত।
আর যাদের ধন-সম্পদে রয়েছে নির্ধারিত হক,
যাচঞাকারী ও বঞ্চিতের,
আর যারা প্রতিফল-দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।
আর যারা তাদের রবের আযাব সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত।
নিশ্চয় তাদের রবের আযাব থেকে কেউ নিরাপদ নয়।
আর যারা তাদের যৌনাংগসমূহের হিফাযতকারী।
তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে সে দাসীগণের ক্ষেত্র ছাড়া। তাহলে তারা সে ক্ষেত্রে নিন্দনীয় হবে না।
তবে যে কেউ এদের বাইরে অন্যকে কামনা করে, তারাই তো সীমালংঘনকারী।
আর যারা নিজদের আমানত ও ওয়াদা রক্ষাকারী,
আর যারা তাদের সাক্ষ্যদানে অটল,
আর যারা নিজদের সালাতের হিফাযত করে,
তারাই জান্নাতসমূহে সম্মানিত হবে।
(সূরা:আল-মা'আরিজ;আয়াত :১৯-৩৫)

তাফসীর: ১৯-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে মানব প্রকৃতির দুর্বলতা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, তারা বড়ই অসহিষ্ণু ও অস্থির চিত্ত। যখন কোন বিপদে পড়ে তখন বড়ই হা-হুতাশ করতে থাকে এবং নিরাশায় একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। পক্ষান্তরে, যখন কোন কল্যাণ লাভ করে ও অবস্থা স্বচ্ছল হয় তখন হয়ে যায় অতি কৃপণ। আল্লাহ তা'আলার হকের কথাও তখন সে ভুলে যায়।

এরপর আল্লাহ্ পাক বলেনঃ তবে হ্যাঁ, এই নিন্দনীয় স্বভাব হতে তারাই দূরে রয়েছে যাদের উপর আল্লাহর বিশেষ রহমত রয়েছে এবং যারা চিরন্তনভাবে কল্যাণের তাওফীক লাভ করেছে। যাদের গুণাবলীর মধ্যে একটি বড় গুণ এই যে, তারা পুরোপুরিভাবে নামায কায়েম করে থাকে। তারা নামাযের সময়ের প্রতি যত্নবান থাকে। ফরয নামায তারা ভালভাবে আদায় করে। নিজেদের নামাযে তারা তা প্রকাশ করে। যেমন মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ ـ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ
অর্থাৎ “অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু'মিনগণ, যারা বিনয়-নম্র নিজেদের নামাযে।” (২৩:১-২) আরবরা বদ্ধ ও হরকতবিহীন পানিকেও مَاءٌ دَائِمٌ বলে থাকে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নামাযে ইতমীনান বা স্থিরতা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি ধীরে সুস্থে ও স্থিরতার সাথে রুকু-সিজদাহ্ আদায় করে না সে তার নামাযে সদা নিষ্ঠাবান নয়। কেননা, সে নামাযে স্থিরতা প্রকাশ করে না, বরং কাকের মত ঠোকর মারে। সুতরাং তার নামায তাকে মুক্ত করাবে না বা পরিত্রাণ লাভে সহায়তা করবে না। এটাও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা প্রত্যেক ঐ ভাল আমলকে বুঝানো হয়েছে যা স্থায়ী হয়। যেমন সহীহ্ হাদীসে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর নিকট ঐ আমলই অধিক পছন্দনীয় যা চিরস্থায়ী হয়, যদিও তা অল্প হয়। অন্য শব্দে রয়েছেঃ “যার উপর আমলকারী স্থায়ীভাবে থাকে।” হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, যখন তিনি কোন আমল করতেন তখন তাঁর উপর চিরস্থায়ী থাকতেন (অর্থাৎ কখনো ঐ আমল পরিত্যাগ করতেন না)

মহান আল্লাহ্ এরপর বলেনঃ যাদের সম্পদে নির্ধারিত হক রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের। سَائِل ও مَحْرُوْم এর পূর্ণ তাফসীর সূরা যারিয়াতে রয়েছে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ এ লোকগুলো কর্মফল দিবসকে সত্য বলে জানে। এ কারণেই তারা এমন সব আমল করে যাতে পুরস্কার লাভ করবে এবং আযাব হতেও পরিত্রাণ পাবে।

আল্লাহ তা’আলা তাদের আরো গুণ বর্ণনা করছেন যে, তারা তাদের প্রতিপালকের শাস্তিকে ভয় করে, যে শাস্তি হতে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি নির্ভয় থাকতে পারে না। তবে হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা যাকে নিরাপত্তা দান করেন সেটা স্বতন্ত্র কথা।

আর এ লোকগুলো নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে, তাদের পত্নী অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্র ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। তবে কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী। এ দু'টি আয়াতের পূর্ণ তাফসীর قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ-এর মধ্যে গত হয়েছে।

এরা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আত্মসাৎ করে না ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না। এগুলো হলো মু'মিনদের গুণাবলী। আর যারা এদের বিপরীত আমল করে তারা মুনাফিক। যেমন সহীহ্ হাদীসে এসেছেঃ “মুনাফিকের লক্ষণ বা নিদর্শন তিনটি। কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে খেলাফ করে এবং তার কাছে কিছু আমানত রাখা হলে তা আত্মসাৎ করে।” অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, কখনও কোন অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে। আর ঝগড়া করলে গালি দেয়।

তারা তাদের সাক্ষ্যদানে অটল। অর্থাৎ তাতে কম বেশী করে না ও সাক্ষ্যদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়েও যায় না। তারা সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে কিছুই গোপন করে না। যারা তা গোপন করে তাদের অন্তর পাপী।

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ তারা তাদের নামাযে যত্নবান থাকে। অর্থাৎ সময় মত ওয়াজিব ও মুসতাহাব পূর্ণভাবে বজায় রেখে নামায পড়ে। এ কথাটি এখানে বিশেষ লক্ষণীয় যে, এই জান্নাতীর গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ্ পাক শুরুতেও নামাযের উল্লেখ করেছেন এবং শেষেও করেছেন। এতে বুঝা যায় যে, দ্বীনের কার্যসমূহে নামাযের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশী এবং এটা খুবই মর্যাদাপূর্ণ কাজ। এটা আদায় করা অত্যন্ত জরুরী এবং এর হিফাযত করা একান্ত কর্তব্য। সূরা قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ-এর মধ্যে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। ওখানে আল্লাহ পাক এসব বিশেষণ বর্ণনা করার পর বলেছেনঃ
اُولٰٓئِكَ هُمُ الْوٰرِثُوْنَ ـ الَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ
অর্থাৎ “তারাই হবে অধিকারী, অধিকারী হবে ফিরদাউসের, যাতে তারা স্থায়ী হবে।” (২৩:১০-১১) আর এখানে বলেছেনঃ তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতে। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকারের ভোগ্যবস্তু পেয়ে তারা আনন্দিত হবে এবং মহাসম্মান লাভ করবে।

22/02/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
জাহান্নাম ঐ ব্যক্তিকে ডাকবে, যে পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
আর সম্পদ জমা করেছিল এবং সংরক্ষিত করে রেখেছিল।
(সূরা-আল-মা'আরিজ;আয়াত:১৭-১৮)

তাফসীর: অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সত্য থেকে পিঠ ফিরিয়ে ও মুখ ঘুরিয়ে নিত এবং মাল-ধন জমা করে ধনাগারে সুরক্ষিত করে রাখত, তা আল্লাহর পথে না ব্যয় করত এবং না তার যাকাত আদায় করত। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বাকশক্তি দান করবেন। ফলে জাহান্নাম খোদ নিজ জবান দ্বারা এমন লোকদেরকে আহবান করবে যাদের জন্য নিজেদের কৃতকর্মের ফলে জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে।

21/02/2025

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
আর এই কুরআন মুত্তাকীদের জন্য এক নিশ্চিত উপদেশ।
(সূরা:আল-হাক্কাহ; আয়াত:৪৮)

তাফসীর: কুরআন সমস্ত লোকের জন্যই নসীহত ও উপদেশ বয়ে এনেছে। কিন্তু এর দ্বারা কেবল তারাই উপকৃত হয় যারা আল্লাহভীরু।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হেদায়েতের কালাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to হেদায়েতের কালাম:

Share