09/01/2022
বন্টননামা (Partition) বা বাটোয়ারা দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য।
রেজিস্ট্রেশন ফিসঃ (ক) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৩ লক্ষ টাকা হলে ৫০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (১) অনুসারে)।
(খ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ১০ লক্ষ টাকা হলে ৭০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (২) অনুসারে)।
(গ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৩০ লক্ষ টাকা হলে ১২০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৩) অনুসারে)।
(ঘ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৫০ লক্ষ টাকা হলে ১৮০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৪) অনুসারে)।
(ঙ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার উর্ধে হলে ২০০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৫) অনুসারে)।
রেজিস্ট্রেশন ফি পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিঃ এ, কোড নং ১.২১৬১.০০০০.১৮২৬ তে জমা করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
স্টাম্প শূল্কঃ ৫০ টাকা (১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৪৫ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে)।
বন্টননামা দলিলের স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রেশন ফি ও কর নির্ধারণ পদ্ধতির স্পষ্টীকরণের বিষয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের পত্র পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
এছাড়া
১। ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা।
২। ই- ফিঃ- ১০০ টাকা।
৩। এন- ফিঃ-
(!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ১৬ টাকা।
(!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা।
৪। (নকলনবিশগনের পারিশ্রমিক) এনএন ফিসঃ-
(!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা।
(!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ৩৬ টাকা।
৫। সম্পত্তি হস্তান্তর নোটিশের আবেদনপত্রে ১০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি।
মন্তব্যঃ-
১। এন- ফি ও ই- ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি এর সাথে একত্রে পে-অর্ডারের মাধ্যমে কোড নং ১৪২২২০১ তে জমা করতে হবে (পুরাতন কোড ১৮২৬)।
২। এনএন- ফি নগদে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা করতে হবে।
৩। সরকার নির্ধারিত হলফনামা, ২০০ টাকার স্টাম্পে প্রিন্ট করে মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
বিঃদ্রঃ
১। ওয়ারিশী স্হাবর সম্পত্তি ব্যতিত অন্যভাবে অর্জিত স্হাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বন্টন নামা দলিলের ক্ষেত্রে উৎস কর প্রযোজ্য।
২। একই দলিলের মাধ্যমে ভাই-বোন, বাবা-মা, পিতা-পূত্র-কন্যা বা স্বামী-স্ত্রীর নামে যৌথ মালিকানায় ক্রয়কৃত জমি এর মালিকদের মধ্যে দলিল অনুযায়ী বন্টনকালে বন্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে 53H ধারায় উৎসে আয়কর আদায়ের প্রযোজ্যতা নেই।
৩। একই দলিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি সত্তার নামে যৌথ মালিকানায় ক্রয়কৃত জমি বা অবকাঠামো এর মালিকদের মধ্যে দলিল অনুযায়ী বন্টনকালে মূলধনী লাভ অর্জিত না হলে দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ৫৩ এইচ ধারায় উৎসে আয়কর আদায়ের প্রযোজ্যতা নেই
৪। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ বি, ধারা মোতাবেক কোন রেকর্ডীয় মালিক মৃত্যুবরণ করলে তাঁর জীবিত ওয়ারিশগণ নিজেদের মধ্যে একটি বন্টননামা দলিল সম্পাদন করে রেজিস্ট্রি করবেন। [143B. (1) Person acquiring immovable property by inheritance according to their respective personal laws shall amicably effect partition of the property among them after the death propositus. After such partition, an instrument of partition shall be prepared and signed by all the concerned parties and shall be registered under the Registration Ac , 1908.
(2) Upon presentation of the instrument of partition prepared, signed and registered under sub-section (1), the Revenue-officer shall revise the Khatian in accordance therewith.]
৫। স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ এর ৫ নম্বর ধারায় Instruments relating to several distinct matters প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, Any instrument comprising or relating to several distinct matters shall be chargeable with the aggregate amount of the duties with which separate instruments, each comprising or relating to one of such matters, would be chargeable under this act.
এখানে ক্লিক করে জেনে নিন, বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রিতে (৫৩এইচ ধারার কর) উৎস করের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত পরিপত্র
এখানে ক্লিক করে বন্টননামা দলিলের উৎস কর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ০১/০৩/২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখের পত্র পড়ুন।
উৎস কর প্রযোজ্য হলেঃ
উৎস কর (53H): আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ‘৫৩এইচ’ ধারার কর আরোপের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এস,আর,ও নং ১৮৪-আইন/আয়কর/২০১৪ তারিখ ১ জুলাই, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালায় 17II ক্রমিকে নতুন বিধি সন্নিবেশের মাধ্যমে সারা দেশের জমি/স্থাপনা রেজিস্ট্রেশন কালে তিনটি তফসিল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উৎস কর হার নির্দিষ্ট করা হয়-
তফশিল-(a):
নিম্ন লিখিত বাণিজ্যিক এলাকার ভূমি, ভূমি ও বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি (১.৬৫ শতাংশ=১ কাঠা) উৎস কর হারঃ
(১) ঢাকাস্থ গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলখুশা, নর্থ-সাউথ রোড, মতিঝিল সম্প্রসারিত এলাকা এবং মহাখালী এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ১০,৮০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(২) ঢাকাস্থ কারওয়ান বাজার এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৬,০০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৩) চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ এবং সিডিএ এভিনিউ দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৩,৬০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৪) নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, পোস্তগোলা এবং ঢাকাস্থ গেন্ডারিয়ার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৩,৬০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৫) ঢাকাস্থ উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ, শাহবাগ, পান্থপথ, বাংলামটর, কাকরাইল দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৬,০০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৬) ঢাকাস্থ নবাবপুর ও ফুলবাড়িয়ার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৩,০০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী
এছাড়া জমির উপর কোন স্থাপনা (Structure), ভবন, ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস থাকলে উক্ত স্থাপনার প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬০০ টাকা অথবা দলিল মূল্যের ৪% টাকা, এ দু’টির মধ্যে যেটি বেশী সেটি অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
তফশিল-(b):
নিম্ন লিখিত এলাকার ভূমি, ভূমি ও বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি (১.৬৫ শতাংশ=১ কাঠা) উৎস কর হারঃ
(১): ঢাকাস্থ উত্তরা (সেক্টর ১-৯), খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকা (১০০ ফুট রাস্তার পাশে), আজিমপুর, রাজারবাগ পুনর্বাসন এলাকা (বিশ্বরোড সংলগ্ন), বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা (ব্লক: এ থেকে জি পর্যন্ত), ঢাকার নিকেতন এবং চট্টগ্রাম এর হালিশহর, পাঁচলাইশ, নাসিরাবাদ ও মেহেদীবাগ এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৯০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(২) ঢাকাস্থ গুলশান, বনানী এবং বারিধারা এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা হারে অথবা প্রতি কাঠা ৩,০০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৩) ঢাকাস্থ ধানমণ্ডি এলাকা দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ২,৪০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৪) ঢাকাস্থ কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, ইস্কাটন, গ্রীণ রোড, এলিফ্যান্ট রোড, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মগবাজার (মূল সড়ক হতে ১০০ ফুটের মধ্যে অবস্থিত), তেজগাঁও শিল্প এলাকা, শেরে বাংলানগর প্রশাসনিক এলাকা, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, লালমাটিয়া, মহাখালী
ডিওএইচএস, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এবং চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ১,৮০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৫) ঢাকাস্থ কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, ইস্কাটন, গ্রীণ রোড, এলিফ্যান্ট রোড এলাকা (মূল সড়ক হতে ১০০ ফুটের বাইরে অবস্থিত) দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ১,২০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৬) ঢাকাস্থ গ্রীণ রোড (ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৩ নং রোড হতে ৮ নং রোড পর্যন্ত) দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ২,৪০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৭) উত্তরা (সেক্টর ১০ থেকে ১৪), নিকুঞ্জ (দক্ষিণ), নিকুঞ্জ (উত্তর), বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকা, গেন্ডারিয়া পুনর্বাসন এলাকা, শ্যামপুর পুনর্বাসন এলাকা, আইজি বাগান পুনর্বাসন এলাকা, টঙ্গী শিল্প এলাকার দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ৬০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
(৮) শ্যামপুর শিল্প এলাকা, পোস্তগোলা শিল্প এলাকা এবং জুরাইন শিল্প এলাকা দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ৪৮,০০০/= টাকা এর মধ্যে
যেটি বেশী।
(৯) খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকার (১০০ ফুটের কম রাস্তার পাশে), রাজারবাগ পুনর্বাসন এলাকার (৪০ ফুট রাস্তার পাশে এবং অন্যান্য অভ্যন্তরিন রাস্তার পাশে) দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ৭২,০০০/= টাকা এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাস্তার পাশে) যেটি বেশী।
(১০) গোড়ান (৪০ ফুট রাস্তার পাশে) এবং হাজারীবাগ ট্যানারী এলাকা দলিল মূল্যের উপর ৪% হারে অথবা প্রতি কাঠা ৩০,০০০/= টাকা এর মধ্যে যেটি বেশী।
এছাড়া জমির উপর কোন স্থাপনা (Structure), ভবন, ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস থাকলে উক্ত স্থাপনার প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬০০ টাকা অথবা স্থাপনা (Structure), ভবন, ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস এর দলিল মূল্যের ৪% টাকা, এ দু’টির মধ্যে যেটি বেশী সেটি অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
তফশিল-(c):
নিম্ন লিখিত এলাকার ভূমি, ভূমি ও বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি (১.৬৫ শতাংশ=১ কাঠা) উৎস কর হারঃ
(১): রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর অধীন উপর্যুক্ত (a) এবং (b) তে উল্লিখিত এলাকা ব্যতিত অন্যান্য এলাকার জন্য দলিল মূল্যের উপর ৪% টাকা।
(২) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ব্যতিত গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ব্যতিত অন্যান্য যে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার জন্য দলিল মূল্যের উপর ৩% টাকা।
(৩) যে কোন জেলা সদরের পৌরসভার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের উপর ৩% টাকা।
(৪) জেলা সদরের পৌরসভা ব্যতীত অন্যান্য পৌরসভার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের উপর ২% টাকা।
(৪) এ, বি এবং সি তফশিলে উল্লেখ করা হয় নাই এমন অন্যান্য এলাকার জন্য দলিল মূল্যের উপর ১% টাকা।
পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, তাদের গত ০৯/০৭/২০১৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখের নথি নং ০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০০৮.২০১৪/৫৬, পরিপত্র নং-১ (আয়কর) এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ‘53H’ এবং আয়কর বিধিমালা, ’17II’ তে আনীত সংশোধনের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ পরিপত্র জারি করে, যা নিম্নরূপঃ
ক। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার যে সকল জমি/স্থাপনা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় এর অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অথবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক ইতোপূর্বে বরাদ্দ বা বিক্রয় করা হয়েছিল, সে সকল জমি বা স্থাপনা পরবর্তীতে হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা 17II তে উল্লিখিত তফসিল (a) ও তফসীল (b) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে। অন্যান্য জমি হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা 17II তে উল্লিখিত তফসীল (c) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।
খ। চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ (আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকা), খুলশী, নাসিরাবাদ, হালিশহর, পাঁচলাইশ, সিডিএ এভিনিউ ও মেহেদীবাগ এলাকায় যে সকল জমি বা স্থাপনা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অথবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক ইতোপূর্বে বরাদ্দ বা বিক্রয় করা হয়েছিল, সে সকল জমি বা স্থাপনা হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা 17II তে উল্লিখিত তফসীল (a) ও তফশিল (b) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে। অন্যান্য জমি
হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা 17II তে উল্লিখিত তফসীল (c) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।
গ। ঢাকা জেলার বসুন্ধরা (ব্লক-এ থেকে ব্লক-জি পর্যন্ত) ও নিকেতন আবাসিক এলাকার দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে তফসিল (b) এর দফা (১) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।
ঘ। আয়কর বিধিমালা 17II এর তফসীল (c) এর ক্রমিক (২) তে উল্লিখিত জেলাসমুহ অর্থাৎ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলার রাজউক ও সিডিএ এর অধিক্ষেত্রাধীন এলাকা ব্যতীত সকল এলাকায় (সিটি কর্পোরেশন এলাকা নির্বিশেষে) দলিল মূল্যের ৩% হারে কর আদায় করতে হবে। তবে বর্ণিত জেলা সমুহের ক্ষেত্রে ‘রাজউক’ ও ‘সিডিএ’ এর অধিক্ষেত্রাধীন এলাকা সমুহে দলিল মূল্যের ৪% হারে কর আদায় করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের যে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় (রাজউক ও সিডিএ এর অধীন এলাকা সমুহ ব্যতীত) দলিল মূল্যের ৩% হারে কর আদায় করতে হবে।
উৎস করের অর্থ সোনালী ব্যাংক লিঃ এর স্থানীয় শাখায় কোড নং ১১১১১০১ তে জমা করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে (পুরাতন কোড ০১১১)।
ব্যবহারকারীদের সুবিধার্তে নিম্নে দুটি উদাহরণ দেয়া হলোঃ
উদাহরণ- ০১
রাজউকের আওতাধীন গুলশান বাণিজ্যিক এলাকায় ৫ কাঠা জমি বিক্রয় করা হলে এবং উক্ত জমির দলিল মূল্য ৯ কোটি টাকা হলে দলিল রেজিস্ট্রেশন কালে 53H ধারায় আয়কর হবে-
(ক) প্রতি কাঠার জন্য ১০,৮০,০০০ টাকা হারে ৫ কাঠার জন্য প্রদেয় কর ১০,৮০,০০০ টাকা * ৫ কাঠা= ৫৪,০০,০০০ টাকা।
(খ) দলিল মূল্য ৯,০০,০০,০০০ টাকার ৪% হারে = ৩৬,০০,০০০ টাকা।
সুতরাং প্রদেয় করের পরিমান হবে (ক) ও (খ) এর মধ্যে যেটি বেশি অর্থাৎ ৫৪,০০,০০০ টাকা।
উদাহরণ- ০২
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কোম্পানীর নিকট থেকে ক্রয়কৃত ১/২(অর্ধেক) কাঠা জমিসহ ২,৫০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি আবাসিক ফ্লাটের দলিল মূল্য (জমির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা এবং ফ্লাটের মূল্য ৩৭,৫০,০০০ টাকা) ৫৭,৫০,০০০ টাকা হলে, 53H ধারায় আয়কর হবে-
(ক) জমির জন্য প্রদেয় করঃ-
(১) কাঠা প্রতি ২,৪০,০০০ টাকা হারে ২,৪০,০০০ টাকা * ০.৫০ কাঠা = ১,২০,০০০ টাকা।
(২) জমির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকার ৪% হারে = ৮০,০০০ টাকা।
সুতরাং জমির জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ (১) এবং (২) এর মধ্যে যেটি বেশি অর্থাৎ ১,২০,০০০ টাকা।
(খ) ২৫০০ বর্গফুট ফ্লাটের জন্য প্রদেয় করঃ-
(১) প্রতি বর্গমিটার ৬০০ টাকা হারে (২৫০০*৬০০) ÷১০.৭৬ = ১,৩৯,৪০৫ টাকা।
সুতরাং ফ্লাটের জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ (১) এবং (২) এর মধ্যে যেটি বেশি, অর্থাৎ ১,৫০,০০০ টাকা।
অতএব, জমি ও ফ্লাটের জন্য 53H ধারায় প্রদেয় করের পরিমাপ হবে (১,২০,০০০ টাকা + ২,২৭,০০০ টাকা) = ২,২৭,০০০ টাকা।