11/09/2020
☘️ব্লক প্রিন্ট সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি ততটুকু আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব☘️
ব্লক হল কাঠের উপর খোদাই করা নকশা। ব্লক দিয়ে ছাপানো কাপড়কে ব্লক প্রিন্ট বলে। ব্লক প্রিন্ট হল এক ধরণের ছাপা কাপড়। সুতি, সিল্ক, খাদি সব ধরণের কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করা যায়। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এই যে, একই ব্লক দিয়ে নানান কাপড় নানান রঙ ও ডিজাইনে প্রিন্ট করা যায়। বর্তমানে ব্লক প্রিন্ট এর কাপড় বেশ জনপ্রিয়। কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করে আয় করা সম্ভব। যে কোন ব্যক্তি নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার জন্য কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
দেশে তৈরি সুতি বা সিল্কের কাপড় সহজেই ব্লক প্রিন্ট করা যায়। কাপড়, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ওড়না, ফতুয়া, পঞ্জাবি, বিছানার চাদর, কুশন কভার ইত্যাদি ব্লক প্রিন্ট করা যায়।
🌼 ব্লক প্রিন্ট করতে যা যা প্রয়োজন:
কাঠের টেবিল,পছন্দ অনুযায়ী কাঠের ব্লক,রঙের ট্রেব্রাশ,পুরাতন কম্বল,পুরানোগরম/শীতের কাপড়ের দোকান,প্লাস্টিকের বাটি,চামচ,মোটা মার্কিন ,কাপড়,হোয়াইট পেস্ট,একরামিন,বাইন্ডার,অকজেল,এন কে,রং
উপকরণগুলো আপনাদের এলাকার মার্কেটের যেকোনো ব্লক-বাটিকের দোকানে পেয়ে যাবেন।
🌼ব্লক প্রিন্ট করার নিয়ম:
১. কাপড় ব্লক প্রিন্ট করার আগে কাপড় ধুয়ে মাড় ছাড়িয়ে নিতে হবে।
২. প্রথমে টেবিলে চট বিছিয়ে নিতে হবে। চটের উপর একটি মোটা পশমী কম্বল বা কাঁথা বিছিয়ে তার উপর যে কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করা হবে সেটা বিছিয়ে নিতে হবে। ব্যবসার শুরুতে টেবিলের পরিবর্তে মাটিতে বা ঘরের মেঝেতেও এইভাবে কাপড় বিছিয়েও ব্লক প্রিন্ট করা যায়।
৩. টেবিল বা মেঝের একপাশে রঙের ট্রে রাখতে হবে। ট্রের মাঝে পুরাতন কম্বলের টুকরাটি রাখতে হবে।
৪. এখন একটা পাত্রে রঙের সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে ব্রাশ দিয়ে ট্রের মাঝের কম্বলে ভালোভাবে ছড়িয়ে নিতে হবে।
৫. ট্রের ভেতরের কম্বলে চাপ দিয়ে কাঠের ব্লকটিতে ভালোভাবে রঙ লাগাতে হবে।
৬. এর পর ঐ ব্লক দিয়ে কাপড়ের যেখানে নকশা করতে হবে সেখানে জোরে চাপ দিয়ে উঠিয়ে ফেললেই কাপড়ে নকশা হয়ে যাবে।
৭. কাপড়টি বাতাসে কিছুক্ষণ মেলে রেখে রঙ শুকিয়ে গেলেই উঠিয়ে ফেলতে হবে।
🌼সাবধানতা:
১. ভালো ডিজাইনের ব্লক সংগ্রহ অথবা তৈরি করতে হবে।
২. রঙ পরিমাণ অনুযায়ী মেশাতে হবে। তা না হলে কাপড়ে নকশার রঙ তাড়াতাড়ি উঠে যাবে।
৩. ব্লকে রঙ ঠিকমতো লেগেছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে।
৪. নকশাটা ঠিকমতো বসাতে হবে।