25/06/2026
১০ মুহাররম — ইয়াওমুল আশুরা
আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক মহিমান্বিত দিন। সহীহ হাদিসে এসেছে, এই দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ আশুরার রোজা রাখতেন এবং উম্মতকেও তা রাখতে উৎসাহিত করেছেন। (সহীহ বুখারি: ২০০৪, সহীহ মুসলিম: ১১৩০)
এই দিন আমাদের ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যের উপর অটল থাকা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়।
পাশাপাশি ৬১ হিজরির ১০ মুহাররমে ইমাম হুসাইন ইবনে আলী কারবালায় শাহাদাত বরণ করেন।
এটি ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে আশুরার মর্যাদা কারবালার ঘটনার আগেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না।
ইয়াওমুল আশুরার শিক্ষা
১. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা মূসা (আ.) যখন সাগরের সামনে এবং ফিরআউনের বাহিনীর পেছনে আটকা পড়েছিলেন, তখন তিনি عَظِيمًاكَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
"কখনো নয়! নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথে আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।" — (সূরা আশ-শুআরা ২৬:৬২)
২. সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থাকা ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ﴾
"হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও।" — (সূরা আন-নিসা ৪:১৩৫)
৩. ধৈর্য ধারণ করা إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" — (সূরা আল-বাকারা ২:১৫৩)
৪. ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
"যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহাসাফল্য অর্জন করে।" — (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭১)
৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আশুরার দিনে আল্লাহ তাআলা মূসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ রোজা রেখেছেন এবং রাখতে উৎসাহিত করেছেন। — (সহীহ বুখারি: ২০০৪, সহীহ মুসলিম: ১১৩০)
✨ আশুরা আমাদের শেখায়— ঈমান, ধৈর্য, ত্যাগ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর উপর অবিচল ভরসাই মুমিনের প্রকৃত শক্তি।
এই দিনে ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা প্রচলিত আছে, কিন্তু সহীহ সনদে প্রমাণিত নয় বা দুর্বল:
হযরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল।
হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পাহাড়ে ভিড়া।
হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি।
হযরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি।
হযরত আইয়ুব (আ.)-এর রোগমুক্তি।
হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পিতার সঙ্গে পুনর্মিলন।
এসব ঘটনা বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ মুহাদ্দিস এগুলোকে দুর্বল (ضعيف) বা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
আসুন, আশুরার তাৎপর্য উপলব্ধি করি, নফল রোজা রাখি, বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।
"আলিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল "