07/01/2025
আপনি জানেন কি?
একটি টায়ার কতদিন ভালো সার্ভিস দেই?
বিট গ্রিপ নতুন থাকা টায়ার কেন ফেটে যায়?
টায়ারের কোড গুলোর অর্থ কি?
টায়ারের তৈরি সন কিভাবে লেখা থাকে?
টায়ার: একটি রিং-আকৃতির উপাদান যা একটি চাকার রিম ঘিরে চাকা থেকে মাটিতে লোহা থেকে একটি গাড়ির লোড স্থানান্তরিত করতে এবং পৃষ্ঠের উপর ট্র্যাশ সরবরাহ করে । অটোমোবাইল এবং বাইসাইকেলগুলির মতো বেশিরভাগ টায়ারগুলি নিউম্যাটিক্যাল ফ্লাইওভার স্ট্রাকচারস, যা একটি নমনীয় কুশন সরবরাহ করে যা পৃষ্ঠের রুক্ষ বৈশিষ্ট্যগুলির উপর টায়ার রোল হিসাবে শক শোষণ করে। টায়ারগুলি এমন একটি পদচিহ্ন সরবরাহ করে যা যন্ত্রটির ভারবহন শক্তির সাথে তার ভারসাম্য বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যা একটি ভারবহন চাপ সরবরাহ করে যা পৃষ্ঠটিকে অত্যধিকভাবে বিকৃত করবে না।
আধুনিক বায়ুসংক্রান্ত টায়ারের উপকরণগুলি সিন্থেটিক রাবার, প্রাকৃতিক রাবার, ফ্যাব্রিক এবং টেলিগ্রাম, কার্বন কালো এবং অন্যান্য রাসায়নিক যৌগ। শরীরটি সংকোচিত বাতাসের পরিমাণ সরবরাহ করার সময় ট্র্যাকশন সরবরাহ করে। রাবার বিকশিত হওয়ার আগে, টায়ারগুলির প্রথম সংস্করণ কেবল পরিধান এবং টায়ার প্রতিরোধের জন্য কাঠের চকারচারপাশে লাগানো ধাতুগুলির ব্যান্ড ছিল। প্রারম্ভিক রাবার টায়ার কঠিন (বায়ুসংক্রান্ত নয়) ছিল। বায়ুসংক্রান্ত টায়ারগুলি গাড়ি, বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল, বাস, ট্রাক, ভারী সরঞ্জাম এবং বিমানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনগুলিতে ব্যবহার করা হয়। মেটাল টায়ারগুলি এখনও ইঞ্জিন এবং রেলকারগুলিতে ব্যবহার করা হয় এবং কঠিন রাবার (বা অন্যান্য পলিমার) টায়ারগুলি এখনও বিভিন্ন অ-স্বয়ংচালিত।
টায়ারের ইতিহাস:
১৮৪৪ সাল গুডইয়ার ভ্যালকানাইজেশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ভ্যাল্কানাইজেশন পধতির মাধ্যমে রাবার টায়ার প্রস্তুত করা যায়। ১৮৪৬ সালে রবার্ট উইলিয়াম থমসন নিউম্যাটিক টায়ার ডিজাইন আবিষ্কার করেন। তিনি এটার প্যাটেন্ট নিবন্ধন করেন। কিন্তু এটার নকশা কারো কাছে বিক্রি করেন নাই। ১৮৮৭ সালে জন বয়েড ডানলপ তার ছেলের তিন চাকার সাইকেলের জন্য একটি নিউম্যাটিক টায়ার আবিষ্কার করেন। ১৮৮৯ সালে ডানলপ তার এই নব উদ্ভাবিত টায়ারের প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করেন। ১৮৯০ সালে ডানলপ তার ব্যাবসায়িক সহযোগী উইলিয়াম হারভে দ্যু ক্রসের সাথে মিলে আয়ারল্যান্ডে বানণিজ্যিক ভিত্তিতে নিউম্যাটিক টায়ার উৎপাদন শুরু করেন। ১৮৯১ সালে থমসনের ডিজাইনের সাথে নকশার সামঞ্জস্য মিলে যাওয়ায় ডানলপের প্যাটেন্ট বাতিল করা হয়।
টায়ারের সর্বোচ্চ গতি:
একটি টায়ার সর্বোচ্চ কত গতিতে চলতে পারবে তা তার গায়ে উল্লেখ থাকে। যেমন B মানে এই টায়ারের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৫০কিমি/ঘন্টা, J মানে ১০০কিমি/ঘন্টা অথবা Z থাকলে বুঝতে হবে ২৪০কিমি/ঘন্টা বা তারও অধিক।
টায়ারের উৎপাদন তারিখ:
আপনি যদি নিয়মিত গাড়ি চালান স্বাভাবিক নিয়মেই টায়ার ক্ষয়ে যাবে । কিন্তু গাড়ি যদি না চালিয়ে ফেলে রাখেন বা কম চালান ? আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে টায়ার ভালো আছে কিন্তু UV রেডিয়েশান, ওজন এমন কি অক্সিজেন পর্যন্ত আপনার টায়ারের ক্ষতি সাধন করে থাকে যা খালি চোখে আপনি দেখতে পাবেন না। এক কথায় টায়ারের বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া। টায়ারের বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া বা tire’s age সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকা জরুরী । বেশীর ভাগ এক্সপার্টই একমত হন যে কম চালানোর কারণে টায়ার ভালো থাকলেও ৬ বছরের অধিক একটি টায়ার ব্যবহার করা উচিৎ না। এরপরে টায়ার বদলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এবং এক্ষেত্রে আপনি কবে টায়ার কিনেছেন তা গুরুত্তপূর্ন না বরং কবে টায়ার তৈরি হয়েছে তাকে গুরুত্ত দিন । প্রতিটি টায়ারের গায়ে উৎপাদন তারিখ লিখা থাকে। টায়ারের উৎপাদন তারিখ টায়ার ওয়ালে চার ডিজিটে উল্লেখ থাকে। প্রথম দুটি দিয়ে সপ্তাহ এবং পরের দুটি দিয়ে বছর বুঝানো হয় । যেমন ধরুন ১৬১২ মানে ২০১২ সালের ষোলতম সপ্তাহে টায়ারটি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সূর্যের আলো এবং অতিরিক গরম হলেও টায়ারের ক্ষতি হতে পারে। টায়ারের গায়ে অনেক সময় সুক্ষ ফাটল দেখা যায় এগুলি হয় SUN rot এর কারণে । আবহাওয়া গত বা বয়স গত কারণে টায়ারের ক্ষয়কে ছোট করে দেখবেন না ।
টায়ারে বাতাসের পরিমাপ:
টায়ার ভেদে পাম্প বা বাতাসের পরিমান আলাদা হয়। টায়ারে কি পরিমান পাম্প দিতে হবে তা টায়ারের গায়েই লেখা থাকে। এর পরিমাপের একক PSI(Pound per Square Inch). টায়ার প্রেশার সঠিক না থাকা দ্রুত টায়ার ক্ষয়ে যাবার অন্যতম একটা কারণ।টায়ার প্রেশারের উপরেই নির্ভর করে ঠিক কতটুকু রাবার রাস্তার সংস্পর্সে আসবে। অতিরিক্ত টায়ার পেসার থাকলে টায়ার সম্পুর্ন বিট গ্রিপ দিয়ে রাস্তা আঁকড়ে থাকতে পারবে না । দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে অন্যদিকে টায়ার প্রেশার কম থাকলে টায়ার অতিরিক্ত গরম হবার কারণে দ্রুত ক্ষয়ে যাবে।
কি ভাবে বুঝবেন আপনার টায়ারের সঠিক প্রেশার কতো হওয়া উচিৎ? উত্তর খুব সহজ, সব কোম্পানিই তাদের টায়ারের সাইড ওয়ালে ম্যাক্সিমাম PSI উল্লেখ করে দেয়। কোম্পানি এক্ষেত্রে আপনি পেছনে সম্ভাব্য কতটুকু ওজন বহন করবেন সেই হিসাবেই এই ম্যাক্সিমাম PSI দিয়ে থাকে এবং কতটুকু ওজন আপনি বহন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট টায়ারে তাও টায়ারের ওয়ালে উল্লেখ থাকে। তাই সর্বোচ্চ টায়ার প্রেসার মানে এই না যে এইটাই আদর্শ । আপনি যদি অধিকাংশ সময় একাই রাইড করেন তাহলে সর্বোচ্চ টায়ার প্রেসারের সামান্য নীচে রাখবেন PSI. অনেক টায়ারে সাইজের পরেই বাতাসের পরিমাপ উল্লেখ থাকে যেমন 42P বা 56P ইত্যাদি।
টায়ারের সর্বোচ্চ লোড:
প্রতিটি টায়ারের লোড নেবার একটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। টায়ারের গায়ে সেটি লেখা থাকে। অতিরিক্ত লোড বহন করলে টায়ার গরম হয়ে ক্ষয় হয়ে যায় এমনকি ফেটে যেতে পারে। টায়টাটুবকিআটায়ারের লোড ক্ষমতা বিশেষ নম্বর দিয়ে বলে দেয়া থাকে বা অনেক টাযারে সরাসরি উল্লেখ থাকে। যেমন ৩০ মানে তার ধারন ক্ষমতা ১০৬ কেজি, ৪০ মানে তার ধারন ক্ষমতা ১৪০ কেজি, বা ৯০ মানে তার ধারন ক্ষমতা ১৬০ কেজি।
টায়ার কোড:
টায়ারের গায়ে কিছু ইংরেজি সংখ্যা ও বর্ণ একত্রে খোদায় করা থাকে । এটাকে টায়ার নোমেনক্লেচার 'বা` টায়ার কোড ' বলা হয়। এই টায়ার কোড দেখে টায়ারটার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আমরা জানতে পারি।
প্রথম টায়ার কোডটা লক্ষ্য করা যাক
195/55 R 16
এখানে 195 এই সংখ্যা দ্বারা টায়ার কতটা চওড়া বা টায়ারের প্রস্থকে বোঝানো হচ্ছে। টায়ারটা ১৯৫ মিলিমিটার চওড়া।
55 সংখ্যা দ্বারা টায়ারের সাইডওয়ালের উচ্চতা বা সেকসেন হাইটকে প্রকাশ করা হচ্ছে। এটা টায়ারের প্রস্থের শতকরা হিসাবে প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে সাইডওয়ালের উচ্চতা হবে ১৯৫x৫৫%=১০৭.২৫ মিলিমিটার।
R এই ইংরাজি বর্ণ দ্বারা টায়ারের গঠনগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা হয়। গঠনগত ভাবে টায়ার সাধারনত বায়াস,বেল্টেড বায়াস ও রেডিয়াল হয়ে থাকে। R বর্ণটি দ্বারা রেডিয়াল টায়ারকে সুচিত করা হচ্ছে।
16 এই সংখ্যা দ্বারা হুইল বা রিমের ব্যাস কে প্রকাশ করা হচ্ছে। এখানে রিমের ব্যাস ১৬ ইঞ্চি।
মোঃ সাহিদুল ইসলাম
মোটরযান প্রশিক্ষক, ইসলাম ড্রাইভিং স্কুল।
মোবাইল: +8801711-063818