18/09/2026
এদের মতো ড্রাইভারকে চাকরি দেয়ার আগে ১০১.১ বার ভেবে নিবেন।। সময় হলে একটু কষ্ট করে পড়ুন🙏
ডিসেম্বর ২০২২, আমার অন্য গাড়িতে চাকরিরত এক অপারেটরের সুপারিশে "শাহীন" নামক এই অপারেটরকে আমার E120 ম্যানুয়াল গাড়িতে চাকরি দেই।।
তার চাহিদা অনুযায়ী মাসিক ৪ হাজার টাকা বেতন ও সাইটে থাকার জন্য লেপ-তোষক সহকারে চাকরিতে রাখা হয়।।
সাইট হয় মৌলভীবাজার জেলার জুরী উপজেলার কালামাটি নামক বর্ডার সাইট এরিয়ায়।। পাহাড়ের মাঝ দিয়ে একটি খাল খননের কাজ ছিলো।। কন্ট্রাক্টর যখন প্রথম গাড়ি ভাড়ার সম্পর্কে আলোচনা করতে আসে তখন তার কথাবার্তা আর ব্যবহারে মনে হয়েছিল সে এক আল্লাহর ওলী,,,এছাড়াও খোঁজ নিয়ে দেখেছিলাম সে খুবই ভালো একজন মানুষ আর বড় প্রজেক্ট বা সরকারি টেন্ডার ছাড়া কাজ করেনা।।
কিন্তু গাড়ি ভাড়া দেয়ার পর সকল ধারণা পুরোপুরি পাল্টে যায়...
এক সপ্তাহ চলার পর প্রতিদিন হাজিরা আসে মাত্র ৫-৬ ঘন্টা,,,কোনো-কোনো দিন ফোন দিলে শুনি গাড়ি-ই চলেনি।।
কখনো ডিজেল নাই,,,কখনো কন্ট্রাক্টর সাইটে নাই,,,কখনো খাবার জন্য বাজার নাই।।
এর মধ্যে আমাদের সাথে আলোচনা না করেই গাড়ি শিফট করে আর রাতের অন্ধকারে নতুন ভড়াট হওয়া একটি জমিতে যেয়ে ফেঁসে যায়।। সারা রাত চেষ্টা করার পরেও গাড়ি উঠাতে পারেনি।। মাঝখানে দুইদিন যাওয়ার পর কল দিয়ে বলে গাড়ি ফেঁসে গেছে।। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমার আব্বু তখন হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় অবস্থানরত ছিলেন।।
আব্বুর সাথে যোগাযোগ অসম্ভব হওয়ায় আমাদের মিস্ত্রির সাথে আলোচনা করি আর তাকে নিষেধ করি যেনো গাড়ীকে আর নাড়াচাড়া না করে।। কারণ গাড়ি যতো নাড়াচাড়া করবে তত কাদার ভেতরে ঢুকবে।। কিন্তু সে কন্ট্রাক্টরের কথায় বার বার চেষ্টা করতে যেয়ে গাড়ীকে প্রায় সারাটাই গায়েব করে দেয়।। শেষমেশ ৪ দিনের মাথায় চেনকাপ্পা দিয়ে পুরো দিন ব্যায় করে গাড়ি উঠাই।।
এদিকে গাড়ি উঠানোর পর প্রতিনিয়ত কন্ট্রাক্টর ও ড্রাইভারের সাথে রাগারাগি হয়েই চলেছে।। এমতাবস্থায় ১ মাস কেটে যায় আর আমরা গাড়ি উঠিয়ে আনার জন্য ড্রাইভারের সাথে আলোচনা করি।। কিন্তু আমরা তখনও জানতাম না, ড্রাইভার আসলে কন্ট্রাক্টরের পূর্ব পরিচিত আর আমরা যা-ই আলোচনা করি তা সবকিছু কন্ট্রাক্টরের কাছে প্রকাশ করে দেয়।।
সামান্য ইঙ্গিত পাওয়ার পর সেখানে থাকা আরেক ড্রাইভারকে সোর্স হিসেবে কাজে লাগাই আর প্রতিদিনের খবরাখবর জানতে থাকি।। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো প্রতিদিন গাড়ি ১৬-১৮ ঘন্টা করে চলছে।। আর তার জন্য সে তার এক সিনিয়র হেল্পারকে নিয়ে এসেছে।। কথা শুনে আমরা পুরাই শক।।
আমরা কন্ট্রাক্টরের সাথে ১ মাসের হিসেবে বসি আর চাপের মুখে কন্ট্রাক্টর স্বীকার করে যে, গত একমাসে ৭৫ হাজার টাকার ঘন্টা বিক্রি করেছে ড্রাইভার।। আর প্রতি ৬ ঘন্টায় ২ ঘন্টা ছাড় দেয়া লাগতো।। সে অনায়াসেই সব বলে যাচ্ছিলো আর মনে হচ্ছিলো যেন সে তার নিজের গুণগান করছে।।
যাইহোক এসকল কথা শুনে আব্বু রাগের মাথায় ড্রাইভারকে কল দিয়ে গালিগালাজ করে আর সাইটে যেয়ে বেধে পিটানোর কথা বলে - যা চরম একটা ভুল ছিলো।।
কারণ এই একটা কলেই সে সতর্ক হয়ে যায় আর বুঝে যায় তার অবস্থা খারাপ হতে চলেছে।। তাই গালি গুলো সহ্য করতে না পেরে সকল পোড়া মবিল হাইড্রলিক টাংকিতে ঢুকিয়ে দেয় আর সবকিছু গুছিয়ে হেল্পারকে গাড়ির কাছে রেখেই পালিয়ে যায়।।
আমরা যখন সাইডে পৌঁছাই তখন আর কিছুই বাকি নেই।। কারণ হেল্পারকে কল দিয়ে বলেছিলাম যে, গাড়ি স্টার্ট দিয়ে খাল থেকে উঠিয়ে লোবেট পয়েন্টে নিয়ে আসতে।। আর হেল্পারের অজানা থাকায় সে স্টার্ট দিয়ে ২০ মিনিট চালানোর পর সকল পাইপ, কন্ট্রোলার ও পাম্প অচল হয়ে যায় আর অদ্ভুত শব্দ করতে থাকে।।
তারপর সে ভয় পেয়ে গাড়ি বন্ধ করে দেয়।। আমরা সাইটে পৌঁছানোর পর কোনো ত্রুটিই খুঁজে পাচ্ছিলামনা।। হঠাৎ হাইড্রলিক লেভেল মিটারে চোখ পড়ে আর স্পষ্ট হয়ে যায় কতটা অমানবিক কাজ করেছে শাহীন নামের এই অমানুষ।।
তাকে কল দিলে সে সব স্বীকার করে আর পাল্টা গালিগালাজ করে।। একপর্যায়ে তাকে তার কর্মফল ভোগের অভিশাপ দিয়ে কল কেটে দেই।। ৪ দিন পাহাড়ের মাঝখানে মিস্ত্রি নিয়ে সবকিছু খুলে কাজ করার পরেও গাড়ি সচল করতে পারিনি।। উপস্থিত সময়ে নতুন পাম্প লাগানোও সম্ভব ছিলোনা।। তাই চেন-কাপ্পা দিয়ে লোবেটে উঠিয়ে গ্যারেজে নিয়ে আসি আর ভাঙারি দামে বিক্রি করতে হয় কারণ নতুন ও পুরাতন পাম্প লাগিয়েও গাড়িকে সঠিক রানিং করানো সম্ভব হয়নি।।
ঘটনার প্রায় ৬ মাস পরে সে কল দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলো কিন্তু আমি তাকে ক্ষমা করিনি আর করবোও না...একে গাড়ি দেয়ার পূর্বে অবশ্যই ভেবে নিবেন।। এরা গাড়ির পার্টস ও ঘন্টা বিক্রির জন্যই ড্রাইভারি করে।।