11/09/2026
একই গাড়ি।
একই দুর্ঘটনা।
একজনের কিছুই হলো না—অন্যজনের জীবন বদলে গেল।
পার্থক্যটা ছিল মাত্র একটা ক্লিকের।
৫ পর্বের সচেতনতা সিরিজ | পর্ব ৩
সিটবেল্ট — “একটা ক্লিকের দূরত্ব”
তানভীর আর তার ছোট ভাই ইমন — দুজনে মিলে প্রতি ঈদে গ্রামের বাড়ি যেত। এবারও তাই হলো। ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে রওনা দিল দুই ভাই, সাথে তাদের বাবা।
হাইওয়েতে ওঠার পর তানভীর সিটবেল্ট বেঁধে নিল, কিন্তু ইমন পেছনের সিটে বসে বেল্ট পরেনি। "পেছনের সিটে বেল্ট লাগে নাকি! সামনের জনের লাগে, পেছনের কী দরকার" — এই ধারণা তার মাথায় ছিল সবসময়।
বাবা বললেন, "বাবা, বেল্টটা পরে নে।" ইমন হেসে বলল, "আরে বাবা, আধা ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাব, কিছু হবে না।"
মহাসড়কে গাড়ির গতি ছিল স্বাভাবিক, প্রায় ৭০ কিলোমিটার। হঠাৎ সামনে একটা মালবাহী ট্রাক ব্রেক কষল আচমকা। তানভীরও ব্রেক করল, কিন্তু গাড়িটা থামার আগেই পেছনের গাড়িটা তাদের ধাক্কা দিল পেছন থেকে।
সামনের সিটে থাকা তানভীর আর বাবা সিটবেল্টের কারণে সিটে আটকে থাকলেন, শুধু ঝাঁকুনি লাগল। কিন্তু ইমন সিটবেল্ট ছাড়া থাকায় সামনের দিকে ছিটকে গিয়ে গাড়ির সামনের সিটের সাথে প্রচণ্ড জোরে আঘাত পেল।
হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, ইমনের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বেঁচে গেলেও, ডাক্তাররা জানালেন, সে হয়তো আর কখনো নিজের পায়ে হাঁটতে পারবে না।
তানভীর এখনও ভাইয়ের হুইলচেয়ার ঠেলে নিয়ে যায় প্রতিদিন। মাঝে মাঝে ইমন বলে, "ভাইয়া, শুধু একটা ক্লিক করলেই তো হতো, তাই না?"
সিটবেল্ট শুধু চালকের জন্য না — গাড়ির প্রতিটা সিটের জন্যই জরুরি। একটা মাত্র ক্লিক, যা এক মুহূর্তের দুর্ঘটনাকে সাধারণ আঘাতে বদলে দিতে পারে।
একটা ক্লিক, একটা জীবন।
এই গল্পটা কাল্পনিক কিন্তু হাজারো পরিবারের বাস্তবতা।
#সিটবেল্টপরুন"