01/04/2026
হামের লক্ষণসমূহ
হামের লক্ষণগুলো সাধারণত দুটি পর্যায়ে দেখা দেয়:
প্রাথমিক লক্ষণ (১ম-৪র্থ দিন):
তীব্র জ্বর: যা ১০৩° থেকে ১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
সর্দি ও কাশি: নাক দিয়ে পানি পড়া এবং অনবরত কাশি হওয়া।
চোখের সমস্যা: চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
কোপ্লিক স্পট: মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদাটে দাগ দেখা দেওয়া।
পরবর্তী লক্ষণ (৪র্থ দিন থেকে):
লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বরের কয়েকদিন পর মুখমণ্ডল ও কানের পেছন থেকে লালচে দানা বের হয় এবং তা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই দানাগুলো সাধারণত ৫-৭ দিন স্থায়ী হয়।
আক্রান্ত হলে করণীয়
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক পরিচর্যা জটিলতা রোধ করতে সাহায্য করে:
বিচ্ছিন্ন রাখা (Isolation): র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৫ দিন রোগীকে অন্যদের (বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারী) থেকে আলাদা রাখুন।
বিশ্রাম ও তরল খাবার: রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন ও পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়ান।
ভিটামিন এ (Vitamin A): চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে, যা অন্ধত্ব ও অন্যান্য জটিলতা রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়।
পরিচ্ছন্নতা: রোগীর চোখ ও নাক হালকা কুসুম গরম পানি ও পরিষ্কার তুলা দিয়ে মুছে দিন।
কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
যদি রোগীর মধ্যে নিচের কোনো বিপদচিহ্ন দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে:
শ্বাসকষ্ট হওয়া।
বারবার বমি হওয়া বা খিঁচুনি হওয়া।
শিশু একদম নিস্তেজ হয়ে পড়া।
চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
মুখের ভেতর গভীর ঘা হওয়া।
প্রতিরোধ: হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নেওয়া। বাংলাদেশে শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর (MR) টিকা দেওয়া হয়।