24/04/2024
ইলেক্ট্রিক বাইক সম্পর্কে আপনার জিজ্ঞাসা
১. ব্যাটারী বাইকতো খেলনা তাই কয়েকদিন পরেই নষ্ট হয়ে যায় ?
উঃ হ্যা আপনি ঠিক বলেছেন, কিন্ত এটা নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করে ফুয়েল বাইকের ইঞ্জিনে এর পরিবর্তে ব্যাটারী আর পিছনের চেইন সম্বলিত চাকার পরিবর্তে ব্রাসলেস মটর ব্যাবহার করা হয়েছে. এতে করে ফুয়েল বাইকের চেয়ে বেশী টেকশই এবং সাস্রয়ী পরিবেশ বান্ধব হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছে এবং বিশ্ব এখন ফুয়েল বাইকের চেয়ে ইলেক্ট্রিক বাইকের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে।
২. রাস্তায় চার্জ শেষ হয়ে গেলে কি করব ?
উঃ প্রতিটি যানবাহনে রাস্তায় বের হওয়ার আগে ২০ সেকেন্ডের একটা চেক করে নিতে হয়, যেমন চাকাগুলোতে হাওয়া আছে কিনা, পানি থাকলে আছে কিনা, তেল থাকলে আছে কিনা, মবিল থাকলে আছে কিনা, ব্যাটারী হলে চার্জ আছে কিনা. এটার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিসপ্লে আছে সেখানে চার্জিং ইন্ডকেটর দেখলে বোঝা যাবে কত টুকু চলবে, ব্যস বের হয়ে যান আপানার গনতব্যে সবকিছু ঠিক থাকলে
৩. এটাতো প্লাস্টিক, তিন চার মাস পরে এমনিতেই ভেঙ্গে যাবে ?
উঃ জ্বি ! এটা ফাইবার প্লাসটিক যে প্লাসটিক আপনারা দেখছেন ফুয়েল বাইক এবং প্রাইভট কারে ব্যবহার করা হয়েছে, এ গুলো বরধরনের এক্সিডেন্ট না হলে সহজে কিছু হয় না. আর এসকল স্পেয়ার পার্স চাইলে যে কোন সময় বদলাতে পারবেন এবং রংও পরিবর্তনের করতে পারবেন.
৪. এই বাইকের রিসেল ভ্যালু নেই তাই কয়দিন পরে এমনিতেই ফেলে দিতে হবে ?
উঃ আপনার কথা ঠিক, কারন যারা এ বাইক কিনে তারা এটা বিক্রয় করে না, যদিও করে নিজেদের সধ্যেই নিয়ে নেয়, হয়ত এরকম কোথাও পরে থাকতে দেখবেন না যেমনটি আপনি বলছেন. যদি হিসেব করেন তাহলে ধরুন ফুয়েল বাইক ১,৪৪,০০০ টাকায় কিনলেন + রেজিস্ট্রেসন খরচ ২২,০০০ টাকা + একবছরে কম করে হলেও ৩৬০০০ টাকার তেল ব্যবহার করেছেন মোট দারায়ঃ ১,৪৪,০০০ + ২২,০০০ + ৩৬,০০০ = 202,000/- এখন কত বিক্রয় করতে পারবেন ৭০,০০০ টাকা তাহলে ক্ষতি হল কত ১,৩২,০০০ টাকা, আর একটি ইলেক্ট্রিক বাইক ৬৫০০০ টাকা কিনে বছরে ২৫০০টাকা চার্জিং খরচ করার পর বিক্রয় করতে পারবেন ৩৫০০০ টাকা , তাহলে ক্ষতি হল কত (৬৫০০০+২৫০০-৩৫০০০) = 32,500 টাকা, এখন আপনি ভাবুন রিসেল আর ক্ষতি কোনটায় বেশী
৫. এই বাইকের স্পেয়ার পার্স পাওয়া যায় না এবং সারানো যায় না ?
উঃ জ্বি এ বাইকের সমস্ত স্পেয়ার পার্স পাওয়া যায়, বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে অর্ডার করলে কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হয়, অটো রিকসার মিস্ত্রিরা এ বাইকের কাজ করতে পারে আর না হইলে সার্ভিস হট লাইনে ফোন করে সার্ভিস সকল সুবিধা নেয়া যায়.
৬. এই বাইকের শব্দ নেই তাই রাস্তায় চলাচল নিরাপদ নয়, এক্সিডেন্ট হতে পারে ?
উঃ হ্যা, এ বাইক শব্দ দূষনমুক্ত কিন্ত হর্ন আছে, আপনি রাস্তায় চলাচলের জন্য হর্ন ব্যবহার করতে পারেন
৭. এই ইজি বাইকে তো অনেক বিদ্যুত বিল আসে ?
উঃ হ্যা ইজি বাইকে বিদ্যুত বিল অনেক আসে কারন ও গুলো পানি ব্যাটারী আর আমাদের বাইকে লিড এসিড ব্যাটারী যা চার্জিং খরচ খুবই কম ১ থেকে ১.৫ ইউনিট কারেন্ট খরচ হয়
৮. এই বাইকের ব্যাটারী খুলে চার্জ দেয়া যায় না ?
উঃ না, এ ব্যাটারী খুলতে হয় না, আপনি যেখানে বাইক রাখবেন সেখানে দুই পিনের সকেট থাকলেই চার্জ করতে পারবেন, সাথে প্রয়োজনে মাল্টি ফ্লাগ ব্যবহার করতে পারেন
৯. এই বাইক চার্জ দিব কোথায় এবং কিভাবে দিব?
উঃ যে গ্রেজে বাইকটি রাখবেন সেখানেই বিদ্যুতের লাইন থাকলে মোবাইলের মত চার্জ করতে পারবেন
১০. এই বাইকতো পুলিসে ধরে এবং ডাম্পিংয়ে দেয়, রাস্তায় চলতে দেয় না ?
উঃ পুলিশ বা ট্রাফিক BRTA এর নিয়ম ভঙ্গ করলে ধরবে এটাই স্বাভাবিক, এ বাইক ডাম্পিংয়ের নেয়ার কোন নিয়ম নাই আর খুব শিগ্রই হয়ত সরকার রেজিস্ট্রেসন প্রক্রিয়া চালু করতে পারে. রাস্তায় অবশ্যই ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে
১১. এই বাইকে কজন চড়তে পারবে, ভেঙ্গে যাবে না তো ?
উঃ নিয়ম অনুসারে প্রতেক বাইকে দুজনের পারমিট থাকে এখন ছোট ছেলে মেয়ে থাকলে কি করবেন, সামনে যায়গা আছে বসিয়ে দিন আরামছে চলুন, অরিজিনাল্লি এ বাইক মেটাল শুধু বাহ্যিকে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হইছে সুতরাং ভাংগার সুযোগ কম.
১২. এই বাইকের টায়ার পাব কোথায় ?
উঃ আপনি বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সার্ভিসে কল করে পেমেন্ট করুন আর কুরিয়ার থেকে টায়ার বুঝে নিন মাত্র এক থেকে দু কর্ম দিবসের মাধ্যমে
১৩. টিউবলেস টায়ার কি এবং লিক হলে কি করব ?
উঃ টিউবলেস টায়ার বলতে টায়ারের ভিতর টিউব নেই এটাই বুঝানো হয়েছে, এ টায়ারের কোয়ালীটি অনেক উন্নত তাই লিক হওয়ার পরেও সার্ভিস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন এবং টায়ারের দোকানে লিক সারাতে পারবেন, ছোট লিক হলে জেল ভরে নিন.
১৪. জেল কি ও নজেল ভাল্ব কি ?
উঃ জেল হল টিউবলেস টায়ারের লিক পুরুফ ম্যাটেরিয়াল যা কোন টায়ারকে লিক থেকে সংরক্ষিত রাখে, যদি কোন টায়ারে পেরেক ঢুকে তখন জেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজে নিজে ছোট খাট লিক বন্ধ করে দেয়. নজেল হল যে নলের মাধ্যমে চাকায় বাতাস ঢুকিয়ে সচল করা হয়.
১৫. পায়ে ব্রেক থাকলে ভাল হত এটা করা যায় না ?
উঃ ডিজিটাল যুগে ইফিসিয়েন্সি বারাতে হবে সব হাত আর সব পা ব্যস্ত রেখে কি আপনি লাভবান হবেন নিশ্চয় না, পায়ের কাজ আপনার বাম হাতের ক্লাসের ভিতর দিয়ে পাকে ফ্রি রাখা হইছে
১৬. সামনে এবং পিছনে কি ব্রেক ব্যবহার করা হইছে ?
উঃ নরমাল্লি সামনে হাইড্রোলিক ব্রেক আর পিছনে ড্রাম ব্রেক থাকে কিন্তু কিছু কিছু বাইকে সামনে এবং পিছনে হাইড্রোলিক ব্রেক দেয়া হয়েছে
১৭. ব্যাটারী টিকে কতদিন এবং ব্যাটারী শেষ হলে কি করব কোথায় যাব ?
উঃ প্রত্যেকটা জিনিষের একটা লাইফ থাকে ব্যাটারীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়, লিড এসিড ব্যাটারী ৫০০ থেকে ৫৫০ বার চার্জ দেয়া যাবে এটাকে ব্যাটারীর লাইফ বলে যেমন ৫৫০ ভাগ ৩০০ = ১.৮ বছর, হয়ত আপনি সচেতন হলে আরও বেসী যেতে পারে
১৮. এই বাইকের রেজিস্ট্রিসন কি ভাবে করব না করলে পুলিশ আটকাবে না ?
উঃ এ বাইকের রেজিস্ট্রেসন করতে হয় না, অদূর ভবিষ্যতে লাগলে করে নিবেন, আর মালিকানা কাগজ সবসময় সাথে রাখবেন এটা পুলিশ চাইলে দেখাবেন
১৯. এই বাইক কত দিন চালানো যাবে ?
উঃ এ বাইক যত্ন করে চালালে আপনার নাতীর নাতী চালাতে পারবে, সেক্ষেত্রে সময়মত ব্যাটারী বদলাতে হবে.
# Moon Khan # Musfiqur Rahman